ধর্ষণ মামলায় ধর্ষিতার চরিত্রঃ ইন্ডিয়ান সাক্ষ্য আইনের পরিবর্তন এবং বাংলাদেশ প্রসঙ্গ

- Mr. Jibrul Hasan.

rape-victim-commits-suicide-1444790524-5614

Published On - July 30, 2016 [Vol. 5, Jul - Dec, 2016]

ভূমিকা:-

কোন সাক্ষীর বিশ্বাসযোগ্যতাকে বিরুদ্ধপক্ষ Evidence Act, 1872 এর ধারা ১৫৫ মোতাবেক যে  চারভাবে সন্ধিগ্ধ করার সুযোগ পান, তার মধ্যে একটি পন্থা শুধুমাত্র ধর্ষণ মামলার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য;  আর তা হলো- when a man is prosecuted for rape or an attempt to ravish, it may be shown that the prosecutrix was of generally immoral character.  অর্থাৎ কোনো ব্যক্তি যখন ধর্ষণ বা বলৎকার চেষ্টার অভিযোগে ফৌজদারীতে সোপর্দ হন, তখন দেখানো যেতে পারে যে অভিযোগকারিণী সাধারণভাবে দুশ্চরিত্রা। এই সাক্ষ্যের অর্থ হলো, সুনির্দিষ্ট কোনো ক্ষেত্রে অভিযোগকারী কর্তৃক পাপাত্মক কাজ হয়েছে মর্মে প্রমাণ করার চেয়েও আরও বেশি কিছু প্রমাণ করার সুযোগ দেয়া। “generally” শব্দ দ্ধারা বুঝানো হয় বেশ্যাবৃত্তি বা পাপাত্মক কাজে অভ্যস্ততা বিষয়ে সাধারণ কুখ্যাতি। এই ধরণের সাক্ষ্য প্রদানের মাধ্যমে শুধু ধর্ষিতার দুশ্চরিত্র প্রমাণ করতেই চেষ্টা করা হয় না, বরং ঐ নারী তর্কিত ঘটনায় ইচ্ছাকৃতভাবে বশ্যতাস্বীকার করেছে মর্মে অনুমান দেয়ার জন্য করা হয়। Evidence Act, 1872 এর ধারা ১৫৫ এর উপধারা ৪ এর উক্ত বিধান বিভিন্ন যৌক্তিক কারণেই বিলোপ করা প্রয়োজন এবং উক্ত আইনে আরও কিছু সংশোধন আবশ্যক; যাতে করে ধর্ষণের শিকার বা ধর্ষণ চেষ্টার শিকার কোন মহিলার চরিত্রের বিষয়টি অপ্রাসঙ্গিক হয়।

ইন্ডিয়ান ৮৪ তম ল’ কমিশন রিপোর্ট (১৯৮০):-  

ধর্ষণ মামলায় ভিক্টিমের অতীত যৌন ইতিবৃত্ত সম্পর্কে অভিযুক্তের পক্ষ থেকে দেয়া সাক্ষ্য কতটুকু গ্রহণ করা যাবে, তা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ইন্ডিয়ান ল’ কমিশনের ৮৪ তম রিপোর্টে (১৯৮০) বলা হয়েছে, ভিক্টিমের অতীত যৌন ইতিবৃত্ত সম্পর্কে সাক্ষ্য দেয়ার বিষয়টি লিগ্যাল সিস্টেম সম্পর্কে সাধারণ মানুষের অসন্তোষ এবং আইনি-কার্যধারা হতে অনীহা অনুভব করার অন্যতম উৎস হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে। বিচার্য বিষয় যদি হয় ভিক্টিমের ‘সম্মতি’- সেক্ষত্রে সাক্ষ্য আইনের ১১ ধারায় অভিযুক্তের সাথে ভিক্তিমের অতীত মিলন সম্পর্কিত সাক্ষ্য প্রাসঙ্গিক হয়। ভিক্টিমের মনের অবস্থা (প্যাশন) দেখানোর জন্য সাক্ষ্য আইনের ধারা ৯৪ অনুযায়ী অভিযুক্তের সাথে অতীত মিলন বিষয়ক সাক্ষ্য প্রমাণ হিসেবে গ্রাহ্য হয়। অন্যদিকে, সাক্ষ্য আইনের ধারা ৮/৯ মোতাবেক যুক্তি দিয়ে দেখানো হয় যে, অতীত মিলন হয়ে থাকলে তা বর্তমান কার্যকে প্রভাবিত করেছে। সাক্ষ্য আইনের ধারা ১৫৫ সংশোধন বিষয়ে ৮৪ তম রিপোর্টে ইন্ডিয়ান ল’ কমিশনের  প্রস্তাব ছিলঃ- সম্মতির বিষয়ে প্রশ্ন উত্থাপিত হলে- অভিযুক্তের সাথে যৌন সম্পর্ক বিষয়ে প্রশ্ন করা ব্যাতিত, অন্য সকল ক্ষেত্রে জেরা/সাক্ষ্য প্রদান হতে বারিত করা; এবং ৮,৯,১১,১৪ ধারায় যাতে সাধারণ অনৈতিক চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন না করা হয়, সেজন্য নতুন ধারা ৫৩এ  সংযোজন করে বিষয়টি আবার উল্লেখ করা।

ইন্ডিয়ান ল’ কমিশনের উপর্যুক্ত প্রস্তাবের সমর্থনে যুক্তি হলো, সাক্ষ্য আইনের ধারা ১৫৫(৪) এর বিধান মাঝেমাঝে খুব কষ্টকর  হয়ে যায়। ধর্ষণ মামলার ভিক্টিমকে দীর্ঘ সময় জিজ্ঞাসাবাদ করলে প্রায়শই সে অবমাননা বোধ করে; বিশেষ করে তার বাড়িতে, প্রতিবেশীদের সামানে বা কর্মক্ষেত্রে। জেরা এবং বিরুপ মন্তব্যের ফলে আত্মসচেতনহীনতা এবং লজ্জার কারণে এক সময় মনের শান্তি স্থায়ীভাবে বিলোপ হয়ে যেতে পারে। অবারিত প্রশ্ন মহিলার সম্মান এবং আত্মমর্যাদাকে ধ্বংস করে দেয়। ন্যায় বিচার ও মহিলার সম্মান- এই দুই এর মধ্যে ব্যালান্স থাকতে হবে। এই বিষয়গুলো বিবেচনা করলে, ইন্ডিয়ান ল’ কমিশনের মতে, সাক্ষ্য আইনের ধারা ১৫৫(৪) সংশোধন বিষয়ে  মারাত্মক পুনর্বিবেচনার যোগ্য।

সাক্ষ্য আইনের ১৫৫(৪) ধারার বৈধতা বিষয়ে ইন্ডিয়ান হাইকোর্টের সিদ্ধান্ত:-

Gopalakrishna Lakanidhi vs Union Of India and Others; 2001 (3) ALD 436 মামলায় ইন্ডিয়ান সাক্ষ্য আইনের ধারা ৫৪ এবং ১৫৫(৪) সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৪ এর লংঘন মর্মে দাবি করে উক্ত দুইটি ধারার বৈধতা নিয়ে জনস্বার্থে ইন্ডিয়ার অন্ধ্র হাইকোর্টে  আবেদন করা হয়। আবেদনকারীর মতে, অভিযুক্ত ব্যক্তির চরিত্র অপ্রাসঙ্গিক হয় সাক্ষ্য আইনের ধারা ৫৪ এর ভিত্তিতে, অথচ সেই বিষয়টিই অভিযোগকারীর বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয় ঐ আইনের ১৫৫(৪) ধারার ভিত্তিতে। অন্যান্য প্রতিকারের সহ ধারা ৫৪ এবং ১৫৫(৪) এর উপযুক্ত সংশোধনী করার নির্দেশনা মূলক প্রতিকার চাওয়া হয়। সাক্ষ্য আইনের ধারা ৫৪ এবং ১৫৫(৪) বৈষম্যমূলক দাবি করে দরখাস্তকারীর পক্ষের বিজ্ঞ কৌসুলি সাক্ষ্য আইন এমনভাবে সংশোধনের জন্য সরকারের প্রতি নির্দেশনা চান যাতে ধর্ষণের শিকার বা ধর্ষণ চেষ্টার শিকার কোন মহিলার চরিত্রের বিষয়টি অপ্রাসঙ্গিক হয়। এতদবিষয়ে অন্ধ্র হাইকোর্ট মনে করেন, সাক্ষ্য আইনের ধারা ১৫৫(৪) এর ব্যাখ্যা সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করে ধর্ষন অপরাধ বা নারীর উপর বলৎকার চেষ্টার বিষয়টিতে আদালতের দৃষ্টিভঙ্গির উপর। এটা বর্তমানে প্রতিষ্ঠিত যে, ধর্ষণ শুধুমাত্র একটি অপরাধই নয়, সংবিধান কর্তৃক স্বীকৃত মৌলিক অধিকারেরও লংঘন। যদি অভিযোগকারী (prosecutrix) এক জন খারাপ চরিত্রের মহিলাও হয়ে থাকে এবং যদি একজন বেশ্যাও হয়, তার গোপনতার অধিকার (right of privacy) কোন ব্যক্তি কর্তৃক খর্ব হতে পারে না এবং নির্যাতিত মহিলার চরিত্র নির্বিশেষে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে অবশ্যই ধর্ষণ অপরাধের শাস্তি পেতে হবে মর্মে ভারতের সর্বোচ্চ আদালতের সিদ্ধান্তের কথা হাইকোর্ট রায়ে উল্লেখ করেন। ধর্ষনের শিকার মহিলার সাক্ষ্যের অতিরিক্ত প্রমাণ (corroboration) এর প্রয়োজন নেই এবং বিশ্বাসযোগ্য হলে শুধুমাত্র ভিক্টিমের সাক্ষ্যের ভিত্তিতেই অভিযুক্ত ব্যক্তিকে দোষী সাব্যস্ত করা যাবে মর্মে State of Maharashtra v Chandraparakash Kewalchand Jain এবং Karnel Singh v. State of Madhya Pradesh মামলায় ভারতের সুপ্রীম কোর্টের দেয়া সিদ্ধান্ত উল্লেখ করে হাইকোর্ট বলেন, সর্বোচ্চ আদালতের উপর্যুক্ত সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে সাক্ষ্য আইনের ধারা ১৫৫(৪) এর উদ্দেশ্য ও সারমর্ম গুরুত্বহীন হয়ে পড়েছে বিধায় সেই বিধানকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করার প্রয়োজন নেই।

State of U.P. Vs. Pappu @Yunus & anr. AIR 2005 SC 1248, মামলায় ভারতের সুপ্রীম কোর্ট বলেন যে, যদি দেখানোও হয় যে মেয়েটি যৌন সঙ্গমে অভ্যস্ত, অভিযুক্ত ব্যক্তি ধর্ষণের দায় হতে অব্যাহতি পাওয়ার জন্য এটা কোন যুক্তি হতে পারে না। এটা প্রতিষ্ঠা করতে হবে যে, ঐ নির্দিষ্ট ঘটনায় মেয়েটির সম্মতি ছিল। তাছাড়া, ভিক্টিমের শরীরে আঘাতের অনুপস্থিতিই অভিযুক্ত ব্যক্তির অব্যাহতি পাওয়ার কারণ হতে পারে না।

ইন্ডিয়ান সাক্ষ্য আইনের সংশোধনী:-

দিল্লির মুনিরকা এলাকায় ২০১২ সালের ১৬ ডিসেম্বরে পাবলিক বাসে ধর্ষণ করা সাইকোথেরাপির ইন্টার্ন ২৩ বছরের জ্যোতিকে।  জ্যোতির বন্ধু অরবিন্দকে পিটিয়ে বাস থেকে ফেলে দিয়ে দুর্বৃত্তরা মেয়েটিকে ধর্ষণ করে। আশংকাজনক অবস্থায় জ্যোতিকে হাসপাতালে নেয়া হয় এবং টানা ১৩ দিন চিকিৎসার পরও অবস্থা আরও খারাপ দিকে যাওয়ায় তাকে সিঙ্গাপুর নেয়া হয়। তার দু’দিন পর মারা যায় দুর্ভাগা মেয়েটি। এই মামলায় মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে ৫ জনকে, তাদের একজন জেলের ভেতরেই মারা গেছে। বাকি চারজন মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে আইনী লড়াই চালিয়ে যায়। অপরাধ প্রমাণ হলেও বয়সের কারণে তিন বছরের কারাদণ্ড পায় একজন, এবং জেলখানার পরিবর্তে কিশোর সংশোধন কেন্দ্রে তাকে রাখা হয়। ডেথ রেফারেন্স ও আপীল শুনানী শেষে ১৩ ই মার্চ ২০১৪ তারিখে দিল্লী হাইকোর্ট অধস্তন আদালতের দেয়া দোষী সাব্যস্ত এবং মৃত্যুদন্ডের শাস্তি বহাল রাখেন।

জনগণের তীব্র প্রতিবাদের মুখে যৌন অপরাধীদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত এবং এতদ সংক্রান্ত আইনের সংশোধন বিষয়ে জন-সুপারিশ গ্রহণের লক্ষ্যে ভারতে ডিসেম্বর ২০১২ তে জুডিসিয়াল কমিটি গঠন করা হয়। ২০১৩ সালে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক Criminal Law (Amendment) Ordinance, 2013 জারি সহ কতক নতুন আইন পাস করা হয়; এবং ধর্ষণ মামলার বিচার-শুনানীর জন্য ছয়টি ফাস্ট-ট্র্যাক-কোর্ট সৃষ্টি করা হয়।

২০১২ সালের আলোচিত দিল্লী ধর্ষণ ঘটনার প্রায় ১০ বছর আগেই ২০০৩ সালে Indian Evidence (Amendment) Act, 2002 দ্বারা সাক্ষ্য আইনের ধারা ১৫৫ এর উপধারা ৪ বাদ দেয়া হয়েছে। ফলে, Indian Evidence Act, 1872 এর ধারা ১৫৫ মোতাবেক কোন সাক্ষীর বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রতিপক্ষ কর্তৃক যে চার ভাবে সন্ধিগ্ধ করার সুযোগ ছিল, তার মধ্যে ধর্ষণ মামলার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য সুযোগ (কোনো ব্যক্তি যখন ধর্ষণ বা বলৎকার চেষ্টার অভিযোগে ফৌজদারীতে সোপর্দ হন, তখন দেখানো যেতে পারে যে অভিযোগকারিণী সাধারণভাবে দুশ্চরিত্রা) বিলোপ করা হয়েছে।

Criminal Law (Amendment) Ordinance, 2013 (যা পরবর্তিতে Act, 2013 এ পরিনত হয়) এর মাধ্যমে Indian Penal Code, 1860 এ বিদ্যমান ৩৭৫, ৩৭৬, ৩৭৬এ, ৩৭৬বি, ৩৭৬সি, ৩৭৬ডি এর পরিবর্তে নতুন ধারা ৩৭৫, ৩৭৬, ৩৭৬এ, ৩৭৬বি, ৩৭৬সি, ৩৭৬ডি ও ৩৭৬ ই প্রতিস্থাপন করা হয়েছে এবং সাক্ষ্য আইনে নতুন ধারা ৫৩এ, ধারা ১৪৬ তে অনুশর্ত এবং নতুন ধারা ১১৪এ সংযুক্ত করা হয়েছে।

Indian Evidence Act, 1872 এর নতুন সংযোজিত ধারা ৫৩এ এর বিধান মতে, যৌন হয়রানি, বিবস্ত্র করা বা চেষ্টা করার জন্য বল প্রয়োগ, গোপন যৌন ক্রিয়া অবলোকন, যোগাযোগের গোপন চেষ্টা ও শান্তি নষ্ট, যৌন আঘাত, যৌন আঘাত করে মৃত্য বা বোধশক্তিহীন করা, সেপারেশন সময়ে স্ত্রীকে যৌন আঘাত, বিশ্বস্তার ব্যক্তি, সরকারি কর্মচারি, জেল বা রিমান্ড হোমে যৌন সঙ্গম, একাধিক ব্যক্তি কর্তৃক একত্রে যৌন আঘাত,কৃত অপরাধের পুনরাবৃত্তি বা এগুলোর চেষ্টা সংক্রান্ত মামলায় ভিক্টিমের সম্মতি নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপিত হলে, সেক্ষত্রে ভিক্টিমের চরিত্র বা অতীত যৌন অভিজ্ঞতা বিষয়ে কোন সাক্ষ্য প্রাসঙ্গিক হবে না।  ধারা ১৪৬ তে নতুন সংযোজিত অনুশর্তের বিধান মতে, যৌন আঘাত, যৌন আঘাত করে মৃত্য বা বোধশক্তিহীন করা, সেপারেশন সময়ে স্ত্রীকে যৌন আঘাত, বিশ্বস্তার ব্যক্তি, সরকারি কর্মচারি, জেল বা রিমান্ড হোমে যৌন সঙ্গম করে বা এগুলোর চেষ্টা সংক্রান্ত মামলায় ভিক্টিমের সম্মতি নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপিত হলে, সেক্ষত্রে ভিক্টিমের সাধারণ অনৈতিক চারিত্র বিষয়ে বা অতীত যৌন অভিজ্ঞতা নিয়ে সাক্ষ্য দেয়া এবং ভিক্টিমকে জেরা করা যাবে না।  সংযোজিত ধারা ১১৪ এ এর বিধান মোতাবেক, পুলিশ কর্মকর্তা,সরকারি কর্মকর্তা,সশস্র বাহিনীর সদস্য,জেল বা রিমান্ড হোমের ব্যবস্থাপক, হাসপাতালের কর্মকর্তা বা কর্মচারী, নারীর আত্মীয়, অভিভাবক, শিক্ষক,বা বিশ্বস্থ ব্যক্তি কর্তৃক যৌন আঘাত বা, প্রেগন্যান্ট নারী, ১৮ বছরের নিচের কোন ব্যক্তি, সম্মতি প্রদানে অক্ষম, অর্থনৈতিক বা সামাজিক অধস্তন, শারীরিক বা মানসিক রোগগ্রস্ত ব্যক্তিকে যৌন আঘাত বা যৌন আঘাতের সময় শারীরিক আঘাত বা জীবন বিপন্ন করা, ক্রমাগত যৌন আঘাত করা হয়,  সেক্ষেত্রে অভিযুক্ত ব্যক্তি যৌন সঙ্গম  করেছে মর্মে প্রমাণ হলে এবং মহিলা সম্মতি দেয় নি মর্মে জানালে, আদালত ধরে নিবে মহিলা সম্মতি দেয় নি। 

বাংলাদেশে বিদ্যমান আইনি বিধান এবং সাক্ষ্য আইন সংশোধন প্রস্তাব:-

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এর ধারা ২(ঙ) মতে, “ধর্ষণ” অর্থ ধারা ৯ এর বিধান সাপেক্ষে, Penal Code, 1860 এর ধারা ৩৭৫ তে সংজ্ঞায়িত rape”।

Penal Code, 1860 এর ধারা ৩৭৫ মতে, যদি কোন পুরুষ নিম্নোক্ত পাঁচটি অবস্থার যে কোনটিতে কোন নারীর সাথে যৌন সঙ্গম করে তাহলে সে  ধর্ষণ সংঘটন করেছে বলে গণ্য হবেঃ- ১) নারীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে; ২) নারীর সম্মতি ছাড়া; ৩) মৃত্যু বা জখমের ভয় দেখিয়ে সম্মতি নিয়ে;  ৪) নারীর সম্মতি নিয়েই, কিন্তু পুরুষটি জানে যে সে ঐ নারীর স্বামী নয় এবং পুরুষটি তাও জানে, নারীটি তাকে এমন একজন পুরুষ বলে ভুল করেছে যে পুরুষটির সঙ্গে তার আইনসঙ্গতভাবে বিয়ে হয়েছে বা বিবাহিত বলে সে বিশ্বাস করে; ৫) নারীর সম্মতিসহ কিংবা সম্মতি ছাড়া যদি সে নারীর বয়স ১৪ বছরের কম হয়। ব্যতিক্রমঃ-১৩ বছরের কম নয় এমন স্ত্রীর সাথে স্বামী যৌন সঙ্গম করলে ধর্ষণ বলে গণ্য হবে না।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এর ধারা ৯(১) এর ব্যাখ্যা মতে, যদি কোন পুরুষ বিবাহ বন্ধন ব্যতীত ষোল বত্সরের অধিক বয়সের কোন নারীর সাথে তার সম্মতি ব্যতিরেকে বা ভীতি প্রদর্শন বা প্রতারণামূলকভাবে তার সম্মতি আদায় করে, অথবা ষোল বত্সরের কম বয়সের কোন নারীর সাথে তার সম্মতিসহ বা সম্মতি ব্যতিরেকে যৌন সঙ্গম করেন, তাহলে তিনি উক্ত নারীকে ধর্ষণ করেছেন বলে গণ্য হবেন৷

যতটা না সঠিক ঘটনা তুলে ধরতে এবং তার বিশ্বাসযোগ্যতা পরীক্ষা করতে ধর্ষণ ঘটনা বিষয়ে ভিক্টিমকে বারবার বিস্তারিত উত্তর দিতে হয়, মূলত অভিযোগের সাথে তার দেয়া সাক্ষ্যের মধ্যে অসামঞ্জস্যতা দেখানোর জন্য ভিক্টিমকে অনবরত একই বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। এজন্যই বলা হয়ে থাকে, ধর্ষণের শিকার একজন নারী বিচার চাইতে গিয়ে আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যেই আবারও জনসমক্ষে ধর্ষণের শিকার হন। Evidence Act, 1872 এর ধারা ১৫৫ উপধারা ৪ এর সুযোগে অভিযুক্তব্যক্তি ভিক্টিমকে ‘কুচরিত্রা’ প্রমাণের চেষ্টা করে থাকেন এই ধারণার বশবর্তী হয়ে যে ঐরূপ প্রমাণ করতে পারলেই তিনি ধর্ষণের অভিযোগ থেকে বেঁচে যেতে পারেন। যদি অভিযোগ হয় বিবাহ বন্ধন ব্যতীত ষোল বত্সরের কম বয়সের কোন নারীর সাথে যৌন সঙ্গম করার, যেখানে ঐ নারীর সম্মতি থাকুক বা, না থাকুক (নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এর ৯(১) ধারার ব্যাখ্যা মতে ধর্ষণ বলে গণ্য হবে), সেই ক্ষেত্রে ঐ নারীর পাপাত্মক চরিত্র সম্পর্কে সাক্ষ্য দেয়ার সুযোগ সম্পূর্ণ অসিদ্ধ।

বাংলাদেশের প্রচলিত সাক্ষ্য আইনের সুযোগ নিয়ে ধর্ষণের মামলায় জেরা করার সময় ধর্ষণের শিকার নারীকে অনেক সময় অনভিপ্রেত, অনাকাঙ্ক্ষিত, ও আপত্তিকর প্রশ্নের মাধ্যমে চরিত্র হনন করা হয়। এ কারণে ধর্ষণের শিকার ব্যক্তি ও তাঁর পরিবার মামলা করতে নিরুৎসাহিত হন ও ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হন। ধর্ষণ মামলায় অভিযুক্তপক্ষ কর্তৃক ভিক্টিমকে জেরা করার সময় আদালতের দায়িত্ব সম্পর্কে ভারতের সুপ্রীম কোর্ট  State of Punjab v. Gurmit Singh; (1996) 2 SCC 384 মামলায় যে পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন তা নিম্নরুপঃ-

“সাক্ষ্য আইনে ঘটনার প্রাসঙ্গিকতা বিষয়ে বিধান যাই থাকুক না কেন, আসামিপক্ষের কিছু কৌসুলি রয়েছেন যারা ধর্ষণের বিস্তারিত সম্পর্কে ভিক্টিমকে অনবরত প্রশ্ন করার কৌশল গ্রহণ করে থাকেন। ধর্ষণ ঘটনা বিষয়ে ভিক্টিমকে বারবার বিস্তারিত উত্তর দিতে হচ্ছে সঠিক ঘটনা তুলে ধরতে নয় এবং তার বিশ্বাসযোগ্যতা পরীক্ষা করতেও নয়, বরং অভিযোগের সাথে তার দেয়া সাক্ষ্যের মধ্যে অসামঞ্জস্যতা দেখানোর জন্য। ফলে আসামিপক্ষ কর্তৃক  ভিক্টিমকে জেরা করার সময়ে আদালত নিরব দর্শকের মত বসে থাকা উচিত নয়। অবশ্যই কার্যকরভাবে সাক্ষ্য গ্রহণ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। অভিযোগকারীর সত্যনিষ্ঠা এবং তার সাক্ষ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা জেরা করার মাধ্যমে যাচাই করার জন্য অভিযুক্তকে যেমন স্বাধীনতা দেয়া উচিত, তেমনিভাবে  আদালতকে অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে যে ভিক্টিমকে হয়রানি বা অবমানিত করার জন্য জেরা করা হচ্ছে না। স্মরণ রাখতে হবে, ধর্ষণের শিকার মহিলা ইতোমধ্যে দুঃখজনক অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গিয়েছেন এবং তাকে যদি ঐ অপরিচিত ঘটনার শিকার হওয়া নিয়ে পুনরাবৃত্তি করতে হয় তাহলে সে লজ্জায় নির্বাক হয়ে থাকতে পারেন এবং তার নিরবতাকে ভুল করে সাক্ষ্যের ‘অমিল এবং স্ববিরোধ’ হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়ে থাকতে পারে।”

ভিক্টিম ও সাক্ষীকে অশোভন, লজ্জাজনক, আক্রমণাত্মক ও বিরক্তিকর প্রশ্ন করা হতে Evidence Act, 1872 এর ধারা ১৫১ ও ১৫২ সুরক্ষা প্রদান করেছে। সাক্ষী যাতে ভয় বা লজ্জা না পেয়ে সাক্ষ্য দিতে পারে, সেজন্য নির্দিষ্ট কোন মামলার প্রয়োজনে আদালত/ট্রাইবুন্যাল বিচার কার্যক্রম রুদ্ধদ্বার কক্ষে (trial in camera) অনুষ্ঠান করতে পারেন। এতে ভিক্টিম বিরুপ কোন প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবেন যা উন্মুক্ত আদালতে জনাকীর্ণ অবস্থায় তার পক্ষে দেয়া সম্ভব নাও হতে পারে।  নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এর ধারা ২০ (৬) মতে, কোন ব্যক্তির আবেদনের প্রেক্ষিতে কিংবা ট্রাইব্যুনাল স্বীয় বিবেচনায় উপযুক্ত মনে করলে এই আইনের ধারা ৯ এর অধীন অপরাধ  (নারী বা শিশু ধর্ষণ;  ধর্ষণ করে নারী বা শিশুর মৃত্যু ঘটানো; ধর্ষণ করে মৃত্যু ঘটানোর বা আহত করার চেষ্টা; ধর্ষণ চেষ্টা; এবং পুলিশ হেফাজতে ধর্ষণ) এর বিচার কার্যক্রম রুদ্ধদ্বার কক্ষে অনুষ্ঠান করতে পারবে৷

সাক্ষ্য আইনে ইন্ডিয়া যেরুপ সংশোধন এনেছে, সেরুপ আমাদের দেশের Evidence Act, 1872  এর ধারা ১৫৫ এর উপধারা ৪ বাদ দেয়া যুক্তিযুক্ত। অর্থাৎ, কোন সাক্ষীর বিশ্বাসযোগ্যতাকে বিরুদ্ধপক্ষ  কর্তৃক যে চার ভাবে সন্ধিগ্ধ করার সুযোগ রয়েছে, তার মধ্যে ধর্ষণ মামলার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য Evidence Act, 1872 এর ধারা ১৫৫ এর উপধারা ৪ এর বিধান (কোনো ব্যক্তি যখন ধর্ষণ বা বলৎকার চেষ্টার অভিযোগে ফৌজদারিতে সোপর্দ হন, তখন দেখানো যেতে পারে যে অভিযোগকারিণী সাধারণভাবে দুশ্চরিত্রা) বিভিন্ন যৌক্তিক কারণেই বিলোপ করা প্রয়োজন।

এছাড়া, আমাদের সাক্ষ্য আইনে নতুন ধারার ৫৩এ ধারা, ধারা ১৪৬ তে নতুন অনুশর্ত এবং নতুন ধারা ১১৪এ সংযুক্ত করে এমন বিধান আনয়ন করা যুক্তিযুক্ত যাতে – ধারা ৫৩এ এর মাধ্যমে Penal Code এর ৩৫৪ ও ৩৭৬ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ (নারীর সংযম নষ্ট করার জন্য আঘাত বা বল প্রয়োগ, ধর্ষণ) বা এগুলো করার চেষ্টা সংক্রান্ত মামলায় ভিক্টিমের সম্মতি নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপিত হলে, সেক্ষেত্রে ভিক্টিমের চরিত্র বিষয়ে কোন সাক্ষ্য প্রাসঙ্গিক না হয়;  ধারা ১৪৬ এর অনুশর্তের মাধ্যমে Penal Code  এর ৩৭৬ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ (ধর্ষণ) বা ধর্ষণ চেষ্টা সংক্রান্ত মামলায় ভিক্টিমের সম্মতি নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপিত হলে, সেক্ষত্রে ভিক্টিমের সাধারণ অনৈতিক চারিত্র বিষয়ে বা অতীত যৌন অভিজ্ঞতা নিয়ে সাক্ষ্য এবং ভিক্টিমকে জেরা করতে দেয়া না হয়; এবং ধারা ১১৪এ এর মাধ্যমে Penal Code  এর ৩৭৬ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ (ধর্ষণ) বা ধর্ষণ চেষ্টা সংক্রান্ত মামলায় পুলিশ কর্মকর্তা,সরকারি কর্মকর্তা,সশস্র বাহিনীর সদস্য, জেল বা রিমান্ড হোমের ব্যবস্থাপক, হাসপাতালের কর্মকর্তা বা কর্মচারী, নারীর আত্মীয়, অভিভাবক, শিক্ষক,বা বিশ্বস্থ ব্যক্তি কর্তৃক যৌন আঘাত বা, প্রেগন্যান্ট নারী, ১৮ বছরের নিচের কোন ব্যক্তি,সম্মতি প্রদানে অক্ষম, অর্থনৈতিক বা সামাজিক অধস্তন, শারীরিক বা মানসিকভাবে ভোগরত ব্যক্তিকে যৌন আঘাত, যৌন আঘাতের সময় শারীরিক আঘাত বা জীবন বিপন্ন করা, ক্রমাগত যৌন আঘাত সংক্রান্ত মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তি যৌন সঙ্গম করেছে মর্মে প্রমাণ হলে এবং মহিলা সম্মতি দেয় নি মর্মে জানালে, মহিলা সম্মতি দেয় নাই মর্মে আদালত কর্তৃক ধরে নিতে পারে।

যার যশ ত্রুটিহীন এবং আচরণ প্রশ্নাতীত- সেই ধরনের নারীর চেয়ে অতীতে বেশ্যাবৃত্তি বা পাপাত্মক  কাজে লিপ্ত ছিল এ ধরনের নারী বর্তমানে স্বেচ্ছায় ঐ ধরনের কাজ করার সম্ভাবনা বেশি থাকে। কিন্তু কারো চরিত্র সন্ধিগ্ধ হলেই তার শারীরিক শুদ্ধতা আইনি সুরক্ষা কম পাওয়ার যোগ্য নয়। ধর্ষিতার নৈতিক গুণাবলি কী, তা শুধু “সম্মতির সম্ভাবনা” নির্ধারণের ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক হয়ে থাকে। যেহেতু, বর্তমানে এটা প্রতিষ্ঠিত আইনি নীতি যে, যদি ধর্ষিতা খারাপ চরিত্রের অধিকারীও হয়ে থাকেন এবং এমনকি যদি বেশ্যাও হয়ে থাকেন, তার গোপনতার অধিকার কোন ব্যক্তি কর্তৃক খর্ব হতে পারে না এবং নির্যাতিতার চরিত্র নির্বিশেষে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে অবশ্যই ধর্ষণ অপরাধের শাস্তি ভোগ করতে হয়; সেহেতু  Evidence Act, 1872 এর ধারা ১৫৫ এর উপধারা ৪ এর বিধান বাদ দেয়া সহ উক্ত আইনে আরও কিছু নতুন ধারা সংশোধন আবশ্যক যাতে করে ধর্ষণের শিকার বা ধর্ষণ চেষ্টার শিকার কোন মহিলার চরিত্রের বিষয়টি অপ্রাসঙ্গিক হয়। উল্লেখ্য, নতুন সাক্ষ্য আইন প্রণয়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ আইন কমিশনের ওয়েবসাইটে খসড়া সাক্ষ্য আইন সকলের সুপারিশ ও মতামতের জন্য প্রকাশ করা হয় যাতে বিদ্যমান ধারা ১৫৫ এর উপধারা ৪ এর বিধান বাদ দেয়া হয়েছে। আশা করা যায়, আইনপ্রণেতাগণ বিদ্যমান সাক্ষ্য আইন সংশোধনের লক্ষ্যে আশু ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

About The Writer

Article Author Image

Mr. Jibrul Hasan.

Judicial Magistrate, Manikganj.

LLB (Hon’s) (First Class),
LL.M (First Class) DU.
E-mail: biplob.nst@gmail.com

Share:  



Welcome To "Law Journal BD"

Rafiqul Haque

“Law Journal BD” is a timely and innovative step towards the growth and development of law. The Journal is a combination of articles from experts which will broaden the scope of our legal instrument and jurisprudence. I sincerely hope the initiative will help the lawyers to be more informed & committed to struggle for justice. It would be more appropriate to consider it as a work of compilation of contributions from various jurists, practitioners and academicians. The “Law Journal BD” publishes articles on all aspects of law.

I deeply appreciate the efforts of the Editor and the whole team of “Law Journal BD”. It is a great contribution to Bangladesh judiciary. The journal publishes articles on all areas of law and I believe the articles will be very helpful to researchers, legal scholars, practitioners, law consultants and moreover to Law students. I am really thankful to both , who are contributing their valuable articles for publication and who are reading the articles for enhancing knowledge of law.


Thanks to all the readers of “Law Journal BD”.


Barrister Rafique - Ul Huq

Senior Advocate, Supreme Court of Bangladesh

Chief Advisor, “Law Journal BD”

Mahfuzur Rahman

The “Law Journal BD” is the first Online Law journal in Bangladesh which specifically publishes law articles only. You will find here different kind of research based articles on various Law topics. The primary function of the journal is to publish lengthy comprehensive treatments of articles generally written by law academicians, Judges, or legal practitioners. A significant feature is that the distinguished writers analyze judicial decisions, contemporary developments of law, legislation and current law reform.

The important features of the journal are the sections of Book Review and Biography of renowned person in legal field. The articles are published as a six months volume & then it will be found in the “Previous Publications” section. The “Law Journal BD” has the efficient team of learned advisors and experienced team of editors. All articles are subjected to a rigorous editorial process in order to strengthen substance, polish tone and ensure citation accuracy.



We thank you sincerely for reading “Law Journal BD”.


Barrister Md. Mahfuzur Rahman (Milon)

Advocate, Supreme Court of Bangladesh

Editor, “Law Journal BD”