যাবজ্জীবন কারাদণ্ডঃ নির্বাহী আদেশে মুক্তি, কারাবাসের ন্যূনতম মেয়াদ নির্ধারণে আদালতের এখতিয়ার, এবং শাস্তি-নীতিমালা’র প্রয়োজনীয়তা

- Mr. Jibrul Hasan.

indian-jails

Published On - November 23, 2016 [Vol. 5, Jul - Dec, 2016]

“Everything that needs to be said has already been said. But since no one was listening, everything must be said again.” __নোবেল জয়ী ফরাসি সাহিত্যিক André Gide

ভূমিকাঃ-

অপরাধীদেরকে শাস্তি প্রদান, অপরাধ হ্রাসকরণ, অপরাধীদের সংশোধন ও পুনর্বাসন, জনসাধারণের সুরক্ষা প্রদান, এবং অপরাধে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ – এই সকল উদ্দেশ্যেই ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থায় অপরাধীদেরকে বিভিন্ন প্রকারের দণ্ড দেয়ার বিধান রাখা হয়েছে। বাংলাদেশের ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হলো দ্বিতীয় সর্বোচ্চ শাস্তি। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত অপরাধী তার স্বাভাবিক জীবনের বাকি পুরো সময় কারাভোগ করার কথা থাকলেও সাধারণত সরকার নির্বাহী আদেশ দ্বারা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের শাস্তি কমিয়ে বা রেয়াত দিয়ে উল্লেখযোগ্য বছর পরে মুক্তি প্রদান করেন। এছাড়াও মহামান্য রাষ্ট্রপতি যেকোনো দণ্ডের মার্জনা, বিলম্বন, বিরাম, মওকুফ, স্থগিত বা হ্রাস করতে পারেন। নির্বাহী আদেশে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রাপ্ত কয়েদিরা রেয়াত সহ ২০ বছর বা তার কিছু বেশী বছর কারাভোগের পরে জীবদ্দশায় কারাগার হতে মুক্তি লাভ করেন বিধায়, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বলতে আসলে ২০ বছর বা নির্দিষ্ট সংখ্যক বছরের কারাদণ্ডকেই বোঝায় মর্মে সাধারণ জনগণ ভুল করে থাকেন। বিশ্বের অনেক দেশে আদালত যাবজ্জীবন শাস্তি প্রদানের সাথে ন্যূনতম মেয়াদ উল্লেখ করে দিতে পারেন এবং ঐ ন্যূনতম মেয়াদের শাস্তি ভোগের আগে সরকার ঐ কারাবন্দির মুক্তির বিষয় বিবেচনা করতে পারেন না। বাংলাদেশের ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থায় এই ধরণের আইনি বিধানের অনুপস্থিতি যেমন রয়েছে, তেমনই শাস্তি-নীতিমালা প্রবর্তন করা হয় নি।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বলতে কী বোঝায়ঃ-

Penal Code[i]এর ধারা ৫৩ তে বর্ণিত শাস্তির ধরণগুলোর মধ্যে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড (Imprisonment for life) হলো দ্বিতীয় সর্বোচ্চ শাস্তি; আর ঐ আইনের ধারা ৪৫ মতে কোনো প্রসঙ্গে বিপরীত কিছু প্রতীয়মান না হলে ‘জীবন’ শব্দটি বলতে বোঝায় কোনো মানুষের জীবন। ধারা ৫৪ ও ৫৫ তে মৃত্যুদণ্ডের এবং যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের শাস্তি হ্রাস করা সংক্রান্ত সরকারের এখতিয়ারের কথা বলা রয়েছে। Code of Criminal Procedure (CrPC)[ii] এর ধারা ৪০১(১) অনুসারে সরকার শর্তহীন বা শর্ত যুক্ত করে যে কোনো সময় শাস্তিপ্রাপ্ত ব্যক্তির শাস্তির প্রয়োগ স্থগিত করতে পারেন বা শাস্তি আংশিক বা পূর্ণ মওকুফ/কমাতে পারেন। পেনাল কোডের ধারা ৫৭ তে বলা হয়েছে, In calculating fractions of terms of punishment, imprisonment for life shall be reckoned as equivalent to rigorous imprisonment for thirty years।

পেনাল কোডের ৫৭ ধারা কোনো ভাবেই যাবজ্জীবনের শাস্তিকে ৩০ বছরে সীমাবদ্ধ করে নি। পেনাল কোডের ধারা ৬৫, ১১৬, ১১৯, ১২৯ এবং ৫১১ এর বিধানগুলো পড়লেই ধারা ৫৭ এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য স্পষ্ট হয়ে যায়। অর্থাৎ যাবজ্জীবন শাস্তির অর্ধেক বা কোনো অংশ বের করার প্রয়োজন হলে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডকে ৩০ বছর ধরে তার ভগ্নাংশ হিসাব করা হয় মাত্র। কারাগারে ভাল ব্যবহার এবং অর্পিত দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করার জন্য জেল কোডের বিধান অনুসারে কারাবন্দিদের মাসিক, পাক্ষিক বা বাৎসরিক ভিত্তিতে কিছু দিনের remission দেয়া হয় এবং অর্জিত remission দিনগুলো তাদের প্রকৃত জেলে থাকার দিনের সাথে যোগ করে আদালত প্রদত্ত শাস্তি মিটমাট করা হয়। সরকার আগাম মুক্তির আদেশ না দিলে একজন যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রাপ্ত কয়েদির অর্জিত remission বাস্তবিকভাবে তার জন্য কোনো সুবিধা বয়ে আনবে না। সরকার যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত কয়েদির শাস্তি CrPC এর ৪০১ ধারা মোতাবেক মওকুফ/কমালে অর্জিত remission মেয়াদ প্রকৃত কারাবাসের সাথে যোগ করে কারাবাসের মোট হিসাব বের করা হয়।

Gopal Vinayak Godse vs. State of Maharashtra, (AIR) 1961 SC 600 মামলায় ভারতের সুপ্রীম কোর্টের সাংবিধানিক বেঞ্চ সিদ্ধান্ত দেন যে যাবজ্জীবন কারাবাসের শাস্তি কোনো নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য নয় এবং আপাতদৃষ্টিতে এটিকে অবশ্যই অপরাধীর স্বাভাবিক জীবনের বাদবাকি পুরো সময়ের কারাবাসকেই বোঝাবে। রায়ের ৫ নং প্যারাগ্রাফে বলা হয়েছেঃ- “… A sentence of transportation for life or imprisonment for life must prima facie be treated as transportation or imprisonment for the whole of the remaining period of the convicted person’s natural life.”[iii]

Gopal Vinayak Godse মামলা থেকে শুরু করে অদ্যাবধি অনেক মামলায় ভারতের সুপ্রীম কোর্টের পরম্পরা সিদ্ধান্ত সমূহের [iv] মাধ্যমে বর্তমানে এটি চূড়ান্তভাবে ধার্য যে, আদালত কর্তৃক প্রদত্ত যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের শাস্তি বলতে দণ্ডিত ব্যক্তির বাকি জীবনের কারাবাসের শাস্তিকেই বোঝায়।

উপর্যুক্ত আলোচনা হতে এটি স্পষ্ট যে, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বলতে দণ্ডিত অপরাধীর বাদবাদি পুরো জীবনের শাস্তিকেই বোঝায়, এবং সরকার কর্তৃক বিধিমত remission আদেশ ব্যতীত দণ্ডবিধি বা ফৌজদারি কার্যবিধিতে এমন কোনো বিধান নেই যাতে করে যাবজ্জীবনের শাস্তিকে ২০ বছর বা ৩০ বছরের কারাদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা যায়।

বিশ্বব্যাপী যাবজ্জীবন কারাদণ্ডঃ-

যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বলতে দণ্ডিত অপরাধীর বাদবাকি পুরো জীবন বা parole (শর্তাধীন মুক্তি) না হওয়া পর্যন্ত কারাগারে থাকার শাস্তিকে বোঝায়। খুন, খুনের চেষ্টা, শিশুর তীব্র অব্যবহার, ধর্ষণ, গোয়েন্দাগিরি, বড় রাজদ্রোহ, মাদক ব্যবসা, মানব পাচার, অগ্নি সংযোগ, সিধ কেটে চুরি, খুন বা শারীরিক আঘাত করে ডাকাতি, গণখুন, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ, যুদ্ধপরাধ ইত্যাদি অপরাধের দায়ে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদানের বিধান রয়েছে। তবে বিশ্বের সব দেশে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান নেই। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের অপরাধীর বাকি জীবন কারাবাসে থাকার কথা থাকলেও উল্লেখযোগ্য বছর কারাভোগের পরে অতীত ও ভবিষ্যৎ কর্মকান্ড বিবেচনায় ঐ অপরাধীকে মুক্তি দিয়ে দেয়া হয়। অনেক দেশে parole (শর্তাধীন মুক্তি) আবেদনের আগে অপরাধীকে নির্দিষ্ট যুগ বা বছর  কারাভোগ করতে হয়। .

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডঃ- নেদারল্যান্ডস এর হ্যাগে অবস্থিত আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে গণখুন, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ, যুদ্ধাপরাধ এবং আগ্রাসন এর অভিযোগে বিচার করা হয়। উপর্যুক্ত যে কোনো অপরাধের দায়ে একজন অপরাধীকে প্রদত্ত নির্দ্দিষ্ট শাস্তির দুই-তৃতীয়াংশ, বা যাবজ্জীবন শাস্তির ক্ষেত্রে ২৫ বছর কারাভোগের পরে আদালতকে পুনর্বিবেচনা করতে যে শাস্তি কমানো উচিত কিনা।[v] যাবজ্জীবন শাস্তি ছাড়াও  ICC সর্বোচ্চ নির্দিষ্ট ৩০ বছরের কারাদণ্ড দিতে পারে।[vi]

ইংল্যান্ডে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডঃ- আদালত life sentence প্রদান করলে বোঝায় অপরাধীর বাদবাকি জীবন শাস্তি ভোগের অধীন। শাস্তি প্রদানের সময় বিচারক অবশ্যই ন্যূনতম মেয়াদ (কখনও tariff বলা হয়) উল্লেখ করে দেন। Parole আবেদনের আগে অবশ্যই ঐ মেয়াদের কারাভোগ করতে হয়। একমাত্র ব্যতিক্রম হলো, যখন যাবজ্জীবন কারাদণ্ড সহ ‘whole life order’ দেয়া হয়। এর অর্থ হলো, ঐ অপরাধীকে বাদবাকি পুরো জীবন কারাবাস করতে হবে। খুনের মামলায় দোষী সাব্যস্ত অপরাধীদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিতে হয়। এক্ষেত্রে বিচারক ন্যূনতম মেয়াদ উল্লেখ করে দেন, parole বোর্ড মুক্তির বিষয় বিবেচনার আগে ঐ মেয়াদের শাস্তি অবশ্যই ভোগ করতে হয়। খুনের দায়ে শাস্তির বিভিন্ন ন্যূনতম মেয়াদ নির্ধারনের জন্য আইনে বিভিন্ন starting point[vii] নির্ধারিত রয়েছে। ন্যূনতম ঐ শাস্তি ভোগের পরে parole বোর্ড যদি সন্তুষ্ট হয় যে জনস্বার্থে ঐ অপরাধীকে আর আটকে রাখার প্রয়োজন নেই, তাহলে ঐ অপরাধীকে শর্তযুক্ত মুক্তি দিতে পারে এবং মুক্তির পরে জনসাধারণের প্রতি হুমকি মনে হলে যেকোনো সময় তাকে আবার জেলে নিয়ে আসতে পারে। কিছু কিছু অপরাধ রয়েছে যেমন ধর্ষণ বা ডাকাতি যার সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। তার অর্থ এই নয় যে ঐ সকল অপরাধের সকল অপরাধীকেই যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়।

যুক্তরাষ্ট্রে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডঃ- যুক্তরাষ্ট্রে ১০০ বছরেরও বেশী কারাবাসের শাস্তি দেয়া হয়, যা প্রকৃতপক্ষে যাবজ্জীবন কারাবাসেরই সামিল। তাছাড়া, কিছু মারাত্মক অপরাধের জন্য আদালত যাবজ্জীবনের অতিরিক্ত কারাবাস দেন যাতে করে কোনো প্রকারের ভাল আচার-ব্যবহার এই অপরাধীর মুক্তি বয়ে না আনতে পারে। অর্থাৎ ঐ সকল ক্ষেত্রে parole (শর্তাধীন মুক্তি) নিয়ম প্রযোজ্য হয় না। উদাহরণ সরূপ, যৌন নির্যাতনের অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় ২০১৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ওহিওর প্রদেশের এরিয়েল কাস্ট্রোকে হাজার বছরের কারাদণ্ডের নির্দেশ দেন সে দেশের একটি আদালত। এক দশকের বেশি সময় ধরে তিন মহিলাকে অপহরণ, বাড়িতে আটকে রেখে বহুবার ধর্ষণ ও শারীরিক অত্যাচার করার অপরাধে এরিয়েল কাস্ট্রো নামক ঐ ব্যক্তির যাবজ্জীবনের সঙ্গে ১০০০ বছরের জেল দেয়া হয়।[viii] যুক্তরাষ্ট্রের চাঞ্চল্যকর অপহরণ মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত কয়েদি এরিয়েল ক্যাস্ট্রো প্রায় এক মাস পর ওরিয়েন্ট কারাগারে গলায় ফাঁসি দিয়ে আত্মহত্যা করে।

নিউজিল্যান্ডে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডঃ-  খুনের মামলার অপরাধীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদানের সময় অপরাধের অবস্থা ও তীব্রতা বিবেচনা করে আদালত উল্লেখ করে দিতে পারেন যে ঐ অপরাধীকে কমপক্ষে ১০ বছর বা তার বেশী সময় কারাভোগ করতে হবে। এমনকি, নির্দিষ্ট কতক পরিস্থতি বিবেচনা করে আদালত যাবজ্জীবন প্রাপ্ত অপরাধীকে কমপক্ষে ১৭ বছর কারাবাস করতে হবে মর্মে উল্লেখ করে দিতে পারেন। Sentencing and Parole Reform Act 2010 বলবৎ হওয়ার পর থেকে গুরুতর ক্ষেত্রে বিচারক ন্যূনতম শাস্তির পরিমাণ উল্লেখ নাও করতে পারেন এবং সে ক্ষেত্রে অপরাধীর বাকি জীবন parole (শর্তাধীন মুক্তি) বিহীন কারাগারেই ব্যয় করতে হবে।[ix] তবে অপরাধ সংঘটনের সময় অপরাধীর বয়স ১৮ বছরের কম হলে তাকে parole বিহীন যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া যায় না।[x]

অস্ট্রেলিয়ায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডঃ- যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের শাস্তি দেয়ার ক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়ার অধিকাংশ আদালত সমূহ non-parole মেয়াদ নির্ধারণের জন্য ক্ষমতাপ্রাপ্ত নয়। এই সকল ক্ষেত্রে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রাপ্ত অপরাধীরা কখন মুক্তি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বা আদৌ পাবেন কিনা তার কোন ইঙ্গিত দেয়া থাকে না। তবে অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া ও দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া রাজ্য দুটির আদালত সমূহ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রাপ্ত অপরাধীদের ন্যূনতম শাস্তি নির্ধারণ করে দিতে পারে।[xi]

বিশ্বের মধ্যে সর্বপ্রথম পর্তুগাল ১৮৮৪ সালে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের শাস্তি বিলোপ করেছে। ইউরোপিয়ান অনেক দেশই সকল ধরণের অনির্দিষ্ট সময়ের কারাদণ্ড বাতিল করেছে। সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে সার্বিয়া, ক্রোয়েশিয়া এবং স্পেন ৪০ বছর কারাবাস, বসনিয়া-হার্যেগোবিনা ৪৫ বছর কারাবাস, পর্তুগাল ২৫ বছরের কারাবাস নির্ধারণ করেছে। অন্যদিকে, নরওয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের শাস্তি বিলোপ করলেও অনির্দিষ্ট মেয়াদের অন্যান্য শাস্তি বহাল রেখেছে। দক্ষিণ ও মধ্য আমেরিকার দেশগুলোর মধ্যে হন্ডুরাস, নিকারাগুয়া, এল সালবেদর, কোস্টারিকা, ভেনিজুয়েলা, কলম্বিয়া, উরুগুয়ে, বল্বিয়া, ইকুয়েডর, এবং ডোমিনিকান রিপাবলিক যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বিলোপ করেছে। এলসালবেদরে ৭৫ বছর, কলম্বিয়ায় ৬০ বছর, কোস্টারিকা ও পানামায় ৫০ বছর, হন্ডুরাসে ৪০ বছর, ইকুয়েডরে ৩৫ বছর, নিকারাগুয়া, বলিবিয়া, উরুগুয়ে ও ভেনিজুয়েলায় ৩০ বছর, এবং প্যারাগুয়ে ২৫ বছর কারাবাসকে সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে নির্ধারণ করেছে। ব্রাজিলে সাধারণ আইনে সর্বোচ্চ শাস্তি ৩০ বছরের কারাবাস, কিন্তু যুদ্ধের সময়ে বিশ্বাসঘাতকতা/অবাধ্যতা, সেনাত্যাগ, এবং অভ্যুত্থান এর মতো সামরিক অপরাধের জন্য সংবিধানে মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের শাস্তি রয়েছে।

বাংলাদেশে নির্বাহী আদেশে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রাপ্ত কয়েদির জীবদ্দশায় মুক্তিঃ

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের অপরাধীর বাকি জীবন কারাবাসে থাকার কথা থাকলেও বিশ্বের অনেক দেশে উল্লেখযোগ্য বছর কারাভোগের পরে অতীত ও ভবিষ্যৎ কর্মকান্ড বিবেচনায় ঐ অপরাধীকে মুক্তি দিয়ে দেয়া হয়। অনেক দেশে parole (শর্তাধীন মুক্তি) আবেদনের আগে অপরাধীকে আদালত কর্তৃক নির্ধারিত ন্যূনতম যুগ বা বছর কারাভোগ করতে হয়। বাংলাদেশে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের অপরাধীর ন্যূনতম কারাভোগের মেয়াদের নির্দেশনা দেয়ার সুযোগ বিচারিক আদালতের না থাকায়, আদালত কেবল যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের শাস্তি ঘোষণার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেন। আর ঐ কারাদণ্ড প্রাপ্ত অপরাধী জীবদ্দশায় মুক্তি লাভ করবে কিনা তা নির্ভর করে সরকারের নির্বাহী আদেশের উপর। প্রায় সকল ক্ষেত্রেই দেখা যায়, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রাপ্ত কারাবন্দিরা রেয়াত সহ ২০ বছর বা তার কিছু বেশী সময় কারাভোগের পর কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে যান।

বাংলাদেশে নির্বাহী আদেশে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রাপ্ত কয়েদি জীবদ্দশায়  মুক্তি লাভ করে থাকেন। CrPC এর ধারা ৪০১(১) তে প্রদত্ত এখতিয়ারবলে বাংলাদেশ সরকার যেকোনো সময় শর্তহীন বা শর্তযুক্ত করে দণ্ডিত অপরাধীর শাস্তির প্রয়োগ স্থগিত করতে পারেন বা শাস্তি আংশিক বা পূর্ণ মওকুফ/কমাতে পারেন। পাকিস্তান ও ভারতের ফৌজদারি কার্যবিধিতে একইরূপ বিধান রয়েছে। তবে ভারতে শাস্তি কমানো/মওকুফ করার সরকারের ক্ষমতাকে ফৌজদারি কার্যবিধির[xii] নতুন ধারা ৪৩৩-এ এর মাধ্যমে সীমিতকরণ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, যাবজ্জীবন বা মৃত্যুদণ্ডের শাস্তিযোগ্য অপরাধের জন্য যদি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয় বা মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত ব্যক্তির শাস্তি ৪৩৩ ধারায় কমিয়ে যাবজ্জীবন করা হয়, ঐ সকল ক্ষেত্রে দণ্ডিত অপরাধী কমপক্ষে ১৪ বছরের কারাভোগ না করা পর্যন্ত মুক্তি পাবে না।

Prisons Act, l894[xiii] এর ক্ষমতাবলে remission (শাস্তি মওকুফ/কমানো) সংক্রান্তে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক প্রণীত এবং জেল কোডে[xiv] অন্তর্ভুক্ত বিধির উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলোঃ- ভাল আচরণ এবং সকল কারাবন্দির প্রতি খেয়াল রাখার জন্য একজন কয়েদিকে প্রতিমাসে ৩ দিন, এবং পরিশ্রম ও প্রতিদিনের কার্য সঠিক ভাবে করার জন্য প্রতিমাসে ০২ দিন স্কেলে রেয়াত (remission) দেয়া হয়[xv]। উক্ত রেয়াতের পরিবর্তে কোন কারাবন্দী-তত্ত্বাবধায়ক প্রতিমাসে ৭ দিন, এবং নৈশ-প্রহরী প্রতিমাসে ৬ দিন রেয়াত পেতে পারে।[xvi] যে সকল কারাবন্দি শুক্রবার এবং সরকারি ছুটির দিনে প্রিজন সার্ভিস (যেমনঃ বাবুর্চি এবং সুইপারি) করে, তারা অন্যান্য রেয়াতের অতিরিক্ত হিসেবে ত্রৈমাসিক ৩ দিন সাধারণ রেয়াত পেতে পারে।[xvii] বিশেষ কাজ যেমনঃ প্রিজনের শৃংখলা রক্ষা, শিক্ষণে সফল, উন্নত মানের কাজে বিশেষ সফলতা, আক্রমণ হতে প্রিজন কর্মকর্তাকে রক্ষা করা, বিভিন্ন দুর্যোগ বা খারাপ অবস্থা হতে উত্তরণে প্রিজন কর্মকর্তাকে সহায়তা, পরিধেয় পোশাকে ব্যয় সাশ্রয়, কারগরি বা একাডেমিক ট্রেনিংএ বিশেষ পারদর্শিতা, টানা ৩ বছর জেলের নিয়ম-কানুনের প্রতি অতি-সতর্ক মনোযোগ এবং জেল-শাস্তি না থাকা ইত্যাদির জন্য সাধারণ রেয়াতের অতিরিক্ত হিসেবে স্পেশাল রেয়াতও দেয়া যায়।[xviii] তবে, সরকারের বিশেষ অনুমোদন ব্যতীত কোন কারাবন্দীকে প্রদত্ত মোট রেয়াত তার শাস্তির এক-তৃতীয়াংশের বেশী হতে পারবে না।[xix]

Remission নিয়মাবলির মধ্যে life-convict বলতে বোঝায় কোন কারাবন্দী যার শাস্তির পরিমাণ ৩০ বছর জেল।[xx] যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের অপরাধী রেয়াত সহ যথাক্রমে ২০ বছর কারাভোগ হয়ে গেলে সম্ভাব্য মুক্তির ২/৩ মাস আগেই উক্ত বিষয়ে আদেশের জন্য আইজি (প্রিজনস) এর মাধ্যমে সরকার বরাবরে পত্র পাঠাতে হয়। [xxi] দীর্ঘ মেয়াদি convicts এবং life-convict যারা সরকারের ২০ বছর-নিয়মের অধীনে মুক্ত হয় নি, তাদের বিষয় ২১ নং অধ্যায় প্রযোজ্য হবে এবং রেয়াত সহকারে তাদের শাস্তি সম্পুর্ন হয়ে গেলে সরকারের পূণঃ বরাত ছাড়াই মুক্তি পাবে।[xxii] কোন life-convict কারাবন্দী যদি মুক্তি পাওয়ার মত রেয়াত অর্জন করে থাকে, তাহলে জেল সুপার ঐ বিষয়টি CrPC এর ৪০১ ধারা মোতাবেক বিবেচনা করার জন্য সরকার বরাবর রিপোর্ট করবেন। [xxiii] সকল life-convict যারা ২০ বছর-নিয়ম মোতাবেক সরকার কর্তৃক রিলিজ হয় নি, সরকারের বরাত ছাড়াই তারা রেয়াত-নিয়মাবলি মোতাবেক মুক্তি পাবে; তবে সরকার চাইলে বিবেচনার জন্য যেকোনোটি পুনরায় নিতে পারেন। [xxiv]

যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রাপ্ত কারাবন্দির শাস্তি CrPC এর ৪০১ ধারা মোতাবেক মওকুফ/কমাতে গিয়ে অর্জিত রেয়াত (remission) মেয়াদ প্রকৃত কারাবাসের সাথে যোগ করে কারাবাসের মোট হিসাব বের করা হয়। তবে সরকার আগাম মুক্তি না দিলে, একজন যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের কয়েদির জন্য অর্জিত রেয়াত কোনো সুবিধাই বয়ে আনে না। যাহোক, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রাপ্ত কয়েদিদের কারাভোগ রেয়াত সহ ২০ বছর হয়ে গেলে তাদের মুক্তির বিষয়ে আদেশের জন্য কারাগারগুলো আইজি (প্রিজনস) এর মাধ্যমে সরকার বরাবরে পত্র পাঠায় এবং সরকার হতে অনুমোদন পেলে ঐ সকল কয়েদিকে মুক্তি দেয়া হয়।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত অপরাধীর মুক্তি লাভের অবিচ্ছেদ্য অধিকার আছে কিনাঃ- 

যাবজ্জীবন কারাবাস (Imprisonment for life) এর শাস্তি বলতে বোঝায় দণ্ডিত অপরাধীর স্বাভাবিক জীবনের অবশিষ্ট পুরো সময়ের কারাবাস। কারাবিধি মোতাবেক অর্জিত রেয়াত (remission) একজন যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের কয়েদির জন্য সুবিধা বয়ে আনতে পারে যদি সরকার তাকে আগাম মুক্তি দিতে চায়। তবে সরকার কর্তৃক তার অবশিষ্ট শাস্তি মওকুফের বা কমানোর কোনো  আদেশ না হয়ে থাকলে সে সয়ংক্রিয়ভাবে জীবদ্দশায় মুক্তি পাওয়ার অধিকারি নয়। অর্থাৎ যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত অপরাধীর মুক্তি লাভের কোনো অবিচ্ছেদ্য অধিকার নেই।

এ প্রসঙ্গে ভারতের সুপ্রীম কোর্টের Arjun Jadav vs State of West Bengal & Others[xxv]  মামলার ঘটনা ও সিদ্ধান্তটি খুবই প্রাসঙ্গিক। দরখাস্তকারী Arjun Jadav সহ সহ-অভিযুক্ত Partap Praharaj কে ভারতীয় পেনাল কোডের ৩০২/৩৪ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে আলীপুরের অতিরিক্ত সেশন জজ ৯ নং আদালত গত ১৫/১/১৯৯১ ইং তারিখে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেন। অবৈধ ভাবে তাকে আটকে রাখা হয়েছে দাবি করে Arjun Jadav ভারতের সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদের অধীনে রিট পিটিশন (হ্যবিয়াস করপাস) দায়ের করেন এবং বন্দীদশা হতে মুক্তির আদেশ প্রার্থনা করেন।  তার দাবি হলো, পশ্চিম বঙ্গের জেল কোড এর রুল ৫৯১ (১৪ বছর-রুল) মোতাবেক অনুসারে তিনি pre-mature মুক্তির যোগ্য হয়েছেন, কারণ তিনি ১০ বছর প্রকৃত জেল খেটেছেন আর ৪ বছর রেয়াত অর্জন করেছেন। পশ্চিম বঙ্গের জেল কোড ও আদালতের প্রতিষ্ঠিত নিয়ম থাকা সত্ত্বেও তার মুক্তির বিষয়টি বিবেচনা না করায় তার আইনগত অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে মর্মে দাবি করা হয়। Pre-mature মুক্তির জন্য ২০০১ সালে তার স্ত্রী কর্তৃপক্ষ বরাবরে আবেদন করেছিলেন। জেল কর্তৃপক্ষ উক্ত আবেদনে সুপারিশ করেছিলেন, কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার ১২/৪/২০০২ ইং তারিখে দরখাস্তটি না-মঞ্জুর করেন। এরপর স্ত্রীর করা ক্ষমার আবেদন কেন্দ্রীয় সরকার না-মঞ্জুর করেন। ১৮/৯/২০০৩ ইং তারিখে আলীপুরের জেল সুপার নিজেই কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে পত্র লিখে দরখাস্তকারীর মুক্তির জোর সুপারিশ করেন। ইতোমধ্যে দরখাস্তকারী রেয়াত সহ ২০ বছর কারাবাস (১৭ বছর প্রকৃত কারাবাস) করেছেন, এবং দাবি করা হয় যে, বর্তমানে তাকে আটকে রাখা বেআইনি ও অবৈধ। এই মামলার ঘটনায় সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদের অধীনে প্রতিকার প্রদান সম্ভব নয় মর্মে জানিয়ে ভারতের সর্বোচ্চ আদালত বলেন, রিমিশনের জন্য দরখাস্তকারী বা তার পক্ষে কেউ দরখাস্ত আনয়ন করলে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ তা রিভিউ বোর্ডের কাছে উপস্থাপন করবে এবং উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ সরকারের আইন ও নীতিমালা অনুসারে দরখাস্তকারীর pre-mature মুক্তির বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করবে। এক্ষেত্রে সরকার আইন অনুসারে উপযুক্ত আদেশ প্রদানে স্বাধীন। যথাযথ কর্তৃপক্ষ শাস্তির পরিমাণ না কমালে যাবজ্জীবন কারাদন্ডের একজন ব্যক্তিকে তার সারাজীবন জেলেই কাটাতে হবে মর্মে উল্লেখ করে ভারতের সর্বোচ্চ আদালত বলেন, “To put it clear, once a person is sentenced to undergo life imprisonment unless imprisonment for life is commuted by the competent authority, he has to undergo imprisonment for the whole of his life.”[xxvi]

Laxman Naskar (Life Convict) vs. State of W.B. & another, (2000) 7 SCC 626 মামলায় ভারতের সুপ্রীম কোর্ট Gopal Vinayak Godse vs. State of Maharashtra[xxvii] মামলার সিদ্ধান্তের বরাত দিয়ে পুনরাবৃত্তি করেন যে, “Imprisonment for life” এর শাস্তি বলতে সাধারণভাবে বোঝায় অপরাধীর স্বাভাবিক জীবনের অবশিষ্ট পুরো সময়ের কারাবাস; এবং ঐ শাস্তি ভোগরত অপরাধী কারাবিধি মোতাবেক remission পেতে পারে, তবে সরকার কর্তৃক তার অবশিষ্ট শাস্তির remission বিষয়ে কোন আদেশ না হয়ে থাকলে সে সয়ংক্রিয়ভাবে জীবনকালে মুক্তি পাওয়ার অধিকারি নয়। পর্যবেক্ষণে ভারতের সর্বোচ্চ আদালত  আরো বলেন, যদিও সংশ্লিষ্ট বিধিতে যাবজ্জীবন কারাদন্ডের শাস্তিকে ২০ বছরের সমান হিসাব করা হয়, ঐ নির্দিষ্ট সময় (রেয়াত সহ) অতিক্রান্তে শর্তহীন মুক্তি পাওয়ার কোনো অবিচ্ছেদ্য অধিকার নেই; এবং রেয়াত (remission) হিসাব করার জন্যই যাবজ্জীবন কারাদণ্ডকে নির্দিষ্ট সময়ের সমান ধরা হয়, অন্য কোনো উদ্দেশ্যে নয়।[xxviii]

যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রাপ্ত অপরাধীর কারাভোগের ন্যূনতম মেয়াদ নির্ধারণে আদালতের এখতিয়ারঃ-

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত অপরাধীর ন্যূনতম কারাভোগের মেয়াদের নির্দেশনা দেয়ার সুযোগ বাংলাদেশে বিচারিক আদালতের না থাকায়, আদালত কেবল যাবজ্জীবন শাস্তি ঘোষণার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেন। আর ঐ কারাদণ্ড প্রাপ্ত অপরাধীর মুক্তির দিনক্ষণ বা আদোও মুক্তি লাভ করবে কিনা তা নির্ভর করে সরকারের সিদ্ধান্তের উপর। ফলে স্বাভাবিকভাবেই যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রাপ্ত অপরাধীদের কারামুক্তির সম্ভাব্য কোনো দিনক্ষণ থাকে না।

ফৌজদারি কার্যর্বিধিতে[xxix] প্রদত্ত এখতিয়ারবলে বাংলাদেশ সরকার যেকোনো সময় শর্তহীন বা শর্তযুক্তভাবে শাস্তিপ্রাপ্ত ব্যক্তির শাস্তির প্রয়োগ স্থগিত করতে পারে বা শাস্তির পূর্ণ বা আংশিক মওকুফ/কমাতে পারেন। শাস্তি স্থগিত বা মওকুফের জন্য সরকার বরাবর আবেদন করলে, উক্ত আবেদন মঞ্জুর নাকি প্রত্যাখ্যান করা উচিত হবে সে মর্মে সরকার আদালতের বিচারক (যিনি শাস্তি দিয়েছেন বা যিনি শাস্তি অনুমোদন করেছেন) এর কাছ থেকে কারণ সম্বলিত মতামত এবং মামলার নথির কপি চাইতে পারেন। [xxx] আমাদের দেশে আদালতের কাছ থেকে এই ধরণের মতামত গ্রহণ করতে দেখা যায় না। অন্যদিকে, মারাত্মক অপরাধের দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রাপ্ত অপরাধীকে সরকার যাতে মুক্তি না দেয়, সেধরণের নির্দেশনা দেয়ার সুযোগও বিদ্যমান আইনে বিচারিক আদালতের নেই। খুনে অপরাধ প্রবণতার মতো ব্যতিক্রমি ঘটনায় এবং যেখানে সমাজ ঐ সকল অপরাধীর মুক্তিতে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে, ঐ সকল ঘটনায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত অপরাধীকে বাদবাকি জীবন জেলে থাকতে হবে মর্মে রায়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দেয়ার সুযোগ বিচারিক আদালতের থাকা দরকার।

২০০৮ সালে Swamy Shraddananda @ Murali  vs State of Karnataka [xxxi] (Criminal Appeal No.454/2006)  মামলায় ভারতের সুপ্রীম কোর্ট  বলেন, ১৪ বছরের কারাভোগকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সুভাষণ হিসেবে ব্যবহার করা গ্রহণযোগ্য নয়। ঐ মামলায় আপীলকারী ২৮/৩/১৯৯৪ ইং তারিখ হতে হাজতবাস করে আসছে বিধায় remission বিধান প্রয়োগ করলে ১৪ বছরের কারাভোগ হয়ে যাওয়ায় নতুন কোনো নির্দেশনা ছাড়াই ঐ ব্যক্তির যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের শাস্তি সম্পূর্ণ হয়ে ২০০৯ সালের প্রথম ভাগে মুক্তির যোগ্য হয়েছে মর্মে বক্তব্য সর্বোচ্চ আদালতের কাছে গ্রহণযোগ্য নয় মর্মে বলা হয়েছে। তাহলে এই বিষয়ে উত্তর কী? ভারতের সর্বোচ্চ আদালত সিদ্ধান্তে বলেন, সর্বোচ্চ ১৪ বছর কারাভোগ করলেই যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ হয়ে যায় মর্মে ধারণাটি ভেঙ্গে দিয়ে স্পষ্ট করতে হবে যে যখন মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয় সেই শাস্তি আদালতের নির্দেশনা অনুসারে যথাযথভাবে সম্পন্ন করতে হবে; এবং যখন মৃত্যুদণ্ডের শাস্তিকে কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয় তখন আদালত নির্দেশ দিয়ে দিতে পারেন যে ঐ  শাস্তি ভোগের ক্ষেত্রে রেয়াত প্রযোজ্য হবে না। ভারতের সুপ্রীম কোর্ট ঐ মামলায় যাবজ্জীবন শাস্তি প্রদানের সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন এবং আপীলকারী জীবদ্দশায় মুক্তি পাবে না মর্মে স্পষ্ট নির্দেশনা প্রদান করেন।

ঐ মামলায় হাইকোর্টের বিচারপতি S. B. Sinha  মামলার ঘটনা এবং অবস্থা বিবেচনায় মৃত্যুদণ্ডের চেয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদানকে যৌক্তিক বিবেচনা করেছিলেন এবং আপীলকারী জীবদ্দশায় মুক্তি পাবে না মর্মে স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছিলেন। অন্যদিকে, বিচারপতি M. Katju এর মতে মৃত্যুদণ্ডই ঐ আপীলকারীর উপযুক্ত শাস্তি। ভারতের সুপ্রীম কোর্ট ঐ মামলায় যাবজ্জীবন শাস্তি প্রদান করেন এবং আপীলকারী জীবদ্দশায় মুক্তি পাবে না মর্মে স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন। যাহোক, অনেক মামলায় সুপ্রীম কোর্ট মৃত্যুদণ্ডের শাস্তি থেকে কমিয়ে যাবজ্জীবন দিয়েছেন বা অনেক ক্ষেত্রে যাবজ্জীবন দিয়ে কমপক্ষে ২০ বছর কারাভোগ করার নির্দেশনা দিয়েছেন মর্মে উল্লেখ করে হাইকোর্টের বিচারপতি S. B. Sinha উদাহরণ হিসেবে Subhash Chander vs. Krishan La & others, (2001) 4 SCC 458, Shri Bhagwan vs. State of Rajasthan, (2001) 6 SCC 296,  Prakash Dhawal Khairnar (Patil) vs. State of Maharashtra, (2002) 2 SCC 35, Ram Anup Singh & others V. State of Bihar, (2002) 6 SCC 686 এবং Mohd. Munna vs. Union of India, (2005) 7 SCC 417 – এই পাঁচটি মামলার ঘটনা ও সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করেন, যেখানে ভারতের সর্বোচ্চ আদালত একই ধরনের আদেশ দিয়েছিলেন।

Subhash Chander vs. Krishan La & others, (2001) 4 SCC 458 মামলায় একাধিক খুনের অভিযোগে Krishan Lal সহ ৫ অভিযুক্তের বিচার হয়। বিচারে একজন বাদে বাকি প্রত্যেককে বিচারিক আদালত মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন। দোষী-অভিযুক্তদের আপীল এবং ডেথ রেফারেন্সে হাইকোর্ট ঐ ৪ জনকে দোষী সাব্যস্ত করার রায় বহাল রাখেন, তবে তাদের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড থেকে কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড করেন। ঐ রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রীম কোর্টে আপীল দায়ের করা হয়। ভারতের সুপ্রীম কোর্ট বলেন, মৃত্যুদণ্ডের শাস্তি কমিয়ে হাইকোর্ট কর্তৃক যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের শাস্তি দেয়া, বিশেষ করে Krishan Lal এর মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন করা, ন্যায্য ছিল না। তখন Krishan Lal এর আইনজীবী আদালতে প্রার্থনা করেন, যেন মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে সারাজীবন কারাভোগ করার আদেশ দেয়া হয় এবং যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হলে তার মক্কেল কোনোদিন pre-mature মুক্তির প্রার্থনা করবে না। আদালত আইনজীবীর বক্তব্যের নোট রেখে আদেশে বলেন, ঐ ব্যক্তিকে সারাজীবন কারাভোগ করতে হবে এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারা, প্রিজনার্স অ্যাক্ট, জেল ম্যানুয়াল বা অন্য কোন আইন বা বিধি বলে তার শাস্তি কমানো যাবে না।

Shri Bhagwan vs. State of Rajasthan, (2001) 6 SCC 296 মামলায় বিচারিক আদালত ও হাইকোর্ট কর্তৃক মৃত্যুদণ্ডের শাস্তি প্রাপ্ত ব্যক্তি সুপ্রীম কোর্টে আপীল করেন। একই পরিবারের ৫ জনকে নির্দয়ভাবে পিটিয়ে খুন করার সময় এই ব্যক্তির বয়স ছিল ২০। খুনের ধরণ ছিল পাশবিক এবং ঘটনার পারিপ্বার্শকতায় দেখা যায় আপিলকারী অতি অকৃতঘ্ন ছিল। মতলব ছিল ভিক্টিমের পরিবারের স্বর্নালংকার ও অন্যান্য জিনিসপত্র চুরি করা। বিচারপতি K. G. Balakrishnan (ঐ সময়ে ভারতের প্রধান বিচারপতি) এই মামলার রায়টি লিখেন এবং মৃত্যুদণ্ড থেকে কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেন এই নির্দেশনা দিয়ে যে কমপক্ষে ২০ বছর কারাভোগের আগে ঐ আপীলকারী মুক্তি লাভ করতে পারবে না।

Prakash Dhawal Khairnar (Patil) vs. State of Maharashtra, (2002) 2 SCC 35 মামলায় আপীলকারী-অপরাধী তার নিজ ভাই, তাদের মা এবং তার ভাইয়ের পরিবারের ৪ জন সদস্যকে খুন করেছিল,  কারণ মৃত ভাই যৌথ সম্পত্তি ভাগ-বাটোয়ারা করে দিচ্ছিল না। ঘটনা সার্বিক বিবেচনা করে ভারতের সুপ্রীম কোর্ট এই মামলায় মৃত্যুদণ্ডের শাস্তি বাতিল করে খুনিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেন এবং কমপক্ষে ২০ বছর কারাভোগের আগে সে মুক্তি পাবে না মর্মে নির্দেশ দেন। এই ধরণের নির্দেশ দিতে গিয়ে ভারতের সর্বোচ্চ আদালত Shri Bhagwan vs. State of Rajasthan[xxxii] এবং Dalbir Singh vs. The State of Punjab[xxxiii] মামলার সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করেন।

Ram Anup Singh & others vs. State of Bihar, (2002) 6 SCC 686 মামলায় পিতার ভাই, ভাইয়ের বউ এবং তার মেয়ের-জামাইকে খুন করার দায়ে বাবা ও দুই ছেলেকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। বাবাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং দুই ছেলেকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেয়া হয়। বিচারিক আদালত কর্তৃক প্রদত্ত ও হাইকোর্ট কর্তৃক অনুমোদিত দুই ছেলের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ সুপ্রীম কোর্ট বাতিল করে দিয়ে তাদেরকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেন এবং এই শর্ত যুক্ত করেন যে তারা প্রকৃত ২০ বছরের কারাভোগের আগে মুক্তি লাভ করতে পারবে না।

বিচারপতি S. B. Sinha কর্তৃক উদাহৃত ৫ম সিদ্ধান্তটি হলো Mohd. Munna vs. Union of India, (2005) 7 SCC 417 মামলার। এই মামলায় ভারতের সর্বোচ্চ আদালত বলেন, সরকার কর্তৃক বিধিমত রেয়াত (remission) আদেশ ব্যতীত Penal Code বা Code of Criminal Procedure তে এমন কোন বিধান নাই যাতে করে যাবজ্জীবনের শাস্তিকে ১৪ বছর বা ২০ বছরের কারাদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা যায়; এবং অধিকন্তু যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত অপরাধী অধিকার হিসেবে রেয়াত দাবি করতে পারবে না।

২০১৪ সালে ভারতের সুপ্রীম কোর্ট Union of India vs. Sriharan @ Murugan & others,[xxxiv] (Writ Petition  (crl) No. 48/2014)  মামলায় বলেন, কোনো শাস্তি হতে পারে অত্যধিক এবং অসঙ্গতভাবে রূঢ় বা কোনোটি হতে পারে অসঙ্গতিপূর্ণ ও অপর্যাপ্ত। হাইকোর্ট কর্তৃক মৃত্যুদণ্ডের শাস্তি বহাল থাকা এমন কোনো মামলা হতে পারে খুবই দুর্লভ প্রকৃতির যেখানে মৃত্যুদণ্ডের শাস্তি অনুমোদনে সুপ্রীম কোর্ট অনিচ্ছুক হতে পারেন। আবার একই সময়ে এমন হতে পারে, অপরাধের প্রকৃতি বিবেচনায় আদালত দৃঢ়রূপে অনুভব করতে পারে যে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে রেয়াত প্রয়োগ করে শাস্তি ১৪ বছরে সম্পূর্ণ হয়ে গেলে তা একেবারেই অসমঞ্জস্য ও অপর্যাপ্ত হবে। তখন তাহলে আদালতের কী করা উচিত? এ প্রসঙ্গে ভারতের সুপ্রীম কোর্টের প্রধান বিচারপতি P. Sathasivam  নিম্নোক্ত পর্যবেক্ষণ দেনঃ-

“If the Court’s option is limited only to two punishments, one a sentence of imprisonment, for all intents and purposes, of not more than 14 years and the other death, the Court may feel tempted and find itself nudged into endorsing the death penalty. Such a course would indeed be disastrous. A far more just, reasonable and proper course would be to expand the options and to take over what, as a matter of fact, lawfully belongs to the Court i.e. the vast hiatus between 14 years’ imprisonment and death. It needs to be emphasised that the Court would take recourse to the expanded option primarily because in the facts of the case, the sentence of 14 years’ imprisonment would amount to no punishment at all.”[xxxv]

অর্থাৎ যদি আদালতের বাছাই করার ক্ষমতা সর্বোচ্চ ১৪ বছরের কারাদণ্ড এবং মৃত্যুদণ্ড এই দুইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, তখন মৃত্যুদণ্ডের শাস্তি প্রদানে আদালত প্রলুব্ধ হতে পারেন। এই ধরণের ঘটনা সত্যিই সর্বনাশা হবে উল্লেখ করে ভারতের সর্বোচ্চ আদালত বলেন যে অধিক ন্যায্য, যৌক্তিক এবং উপযুক্ত পন্থা হবে শাস্তির পরিমাণ বাছাই করার ক্ষমতা (যেমনঃ ১৪ বছরের জেল এবং মৃত্যুদণ্ডের মধ্যকার বিশাল ফাঁক) সম্প্রসারণ করা এবং আদালতের প্রতি তার ন্যায়সঙ্গত দায়িত্ব অর্পণ করে দেয়া। আদালত সম্প্রসারিত বাছাইকে অবলম্বন করতে পারবে কারণ কোনো কোনো মামলার ঘটনা বিবেচনায় ১৪ বছরের জেল একেবারে কোন শাস্তিই নয় মর্মে মনে হতে পারে।

ভারতীয় পেনাল কোডের ৫৩ ও ৪৫ ধারা অনুসারে যাবজ্জীবন কারাদন্ড বলতে কারাবন্দির সারাজীবন কারাগারে থাকা বোঝায় কিনা অথবা যাবজ্জীবন কারাদন্ডের শাস্তি ভোগরত ব্যক্তি remission চাওয়ার অধিকার আছে কিনা এবং বিশেষ কতক মামলায় মৃত্যুদণ্ডের বিকল্পরূপে যাবজ্জীবন কারাদন্ড বা ১৪ বছরের বেশী জেল দেয়ার জন্য বিশেষ শ্রেণী করা যায় কিনা এবং ঐ শ্রেণী remission সুবিধা থেকে বাইরে রাখা যায় কিনা? – এই ইস্যু সহ উক্ত মামলায় উত্থাপিত সবগুলো ইস্যু পুরো দেশের জন্যই সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ এবং সেগুলোর সিদ্ধান্ত ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থায় শাস্তি প্রদানের কার্যপ্রণালী  হিসেবে নির্ধারিত হবে বিধায়  উক্ত রিট পিটিশন (ক্রিমি) ৪৮/২০১৪ মামলাটি সিদ্ধান্তের জন্য সাংবিধানিক বেঞ্চে পাঠানো হয়।

উক্ত ইস্যুতে গত ২ ডিসেম্বর ২০১৫ ইং তারিখে ভারতের সুপ্রীম কোর্টের সাংবিধানিক বেঞ্চ বিভক্তি রায় প্রদান করেন। বিশেষ কতক মামলায় মৃত্যুদণ্ডের বিকল্পরূপে যাবজ্জীবন কারাদন্ড বা ১৪ বছরের বেশী জেল দেয়ার জন্য বিশেষ শ্রেণী করার এবং ঐ শ্রেণী remission সুবিধা থেকে বাইরে রাখার Swamy  Shraddananda মামলার সিদ্ধান্তের সমর্থন করেন ৩ বিচারপতি H.L. Dattu CJI, Fakkir Mohamed Ibrahim Kalifulla, এবং Pinaki Chandra Ghose। অন্যদিকে, আদালতকে মৃত্যুদণ্ডের বিকল্পরূপে বিশেষ শ্রেণীর শাস্তি তৈরি করতে দেয়া যায় না এবং ঐ শাস্তিকে remission নিয়ম প্রয়োগের বাইরেও রাখা যায় না, এমনকি CrPC এর ৪৩৩-এ ধারার সাথে সাংঘর্ষিক এমন কোনো বাধ্যতামূলক শাস্তি ভোগের মেয়াদ নির্ধারণ আদালতকে করতে দেয়া যায় না মর্মে বিচারপতি Uday Umesh Lalit এর দেয়া রায়কে সমর্থন করেন অপর বিচারপতি Abhay Manohar Sapre।

অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া ও দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া রাজ্য দুটির আদালত সমূহ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রাপ্ত অপরাধীদের ন্যূনতম শাস্তি নির্ধারণ করে দিতে পারে। খুনের দায়ে বাধ্যতামূলক যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান ১৯৮৬ সালের আইন[xxxvi] দ্ধারা ভিক্টোরিয়াতে বিলোপ করার সাথে সাথে আদালত সমূহকে এখতিয়ার দেয়া হয়েছে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রাপ্ত অপরাধীর non-parole মেয়াদ নির্ধারণ করে দেয়ার। যেসকল অপরাধী আগেই আমৃত্যু কারাদণ্ড পেয়েছিলেন তাদেরকে সুযোগ দেয়া হয়েছিল ন্যূনতম শাস্তি নির্ধারনের জন্য সুপ্রীম কোর্টে আবেদন করার। মৃত্যুদণ্ড বিলোপের (১ জুলাই, ১৯৭৬) আগে যাদেরকে মৃত্যুদণ্ডের শাস্তি কমিয়ে যাবজ্জীবন করা হয়েছিল, তারাও ন্যূনতম শাস্তি নির্ধারনের জন্য আদালতে আবেদন করার সুযোগ পেয়েছিল। ভিক্টোরিয়াতে যাবজ্জীবন শাস্তির ক্ষেত্রে non-parole মেয়াদে কোনো remission প্রযোজ্য নয়।[xxxvii]

৬৬ বছর আগে শেষ হওয়া বৃটিশ শাসনের পদচিহ্ন হিসেবে রেখে যাওয়া Penal Code, 1860, Code of Criminal Procedure, 1898 এবং Evidence Act, 1872 দ্ধারা বাংলাদেশের ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থা পরিচালিত হচ্ছে মর্মে উল্লেখ করে Rokia Begum alias Rokeya Begum vs. The State[xxxviii] মামলায় বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের মাননীয় বিচারপতি Muhammad Imman Ali বলেন, আমাদের জন্য রেখে যাওয়া আইন সমূহ অনেক বছরের পরিক্রমায় ইংল্যান্ড তাদের নিজেদের জন্য রুপান্তর ও উন্নয়ন করে নিয়েছে। রায়ের আলোচনার প্রসঙ্গ টেনে মাননীয় বিচারপতি উদাহরণ হিসেবে বলেন, ইংল্যান্ডে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বলতে মামলার ঘটনা ও অবস্থা অনুসারে আদালতের মতে তা মাস বা বছর- যেকোনো মেয়াদের হতে পারে, আবার সারাজীবনের জন্যও কারাবাস হতে পারে। মাননীয় বিচারপতি আরও বলেন, ইংল্যান্ড সহ বিভিন্ন দেশে যাবজ্জীবনের শাস্তি প্রদানের পর যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক জারিকৃত sentencing guidelines অনুসরণ করে বিচারক নির্দিষ্ট করে দিতে পারেন যে নির্দিষ্ট সংখ্যক বছরের আগে (হতে পারে ১০-৬০ বছর) কারাবন্দি ব্যক্তি মুক্তি পাবে না বা তার স্বাভাবিক জীবনেও মুক্তি পাবে না।

বাংলাদেশ ও ভারতের ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থা একই ধরণের। উপর্যুক্ত মামলা সমূহে ভারতের সুপ্রীম কোর্ট যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান সহ ন্যূনতম একটি মেয়াদের কথা উল্লেখ করে দিয়েছেন যাতে ঐ মেয়াদের কারাভোগের আগে সরকার ঐ সকল কারাবন্দিকে মুক্তি দিতে না পারে। এই ধরণের নির্দেশনা ভারতের সুপ্রীম কোর্ট প্রদান করেছেন বিভিন্ন বিষয় পর্যবেক্ষণ করে। কিন্তু আমাদের দেশের মতো ভারতেও বিচারিক আদালত সমূহকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে হয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যাবজ্জীবন শাস্তি ঘোষণা সহ বিভিন্ন মেয়াদি বাধ্যতামূলক ন্যূনতম কারাবাসের আদেশ দেয়ার সুযোগ রয়েছে এবং ঐ সকল দেশে আদালত যাবজ্জীবন শাস্তি প্রদানের ক্ষেত্রে অপরাধের মাত্রা, অপরাধের সাথে প্রাসঙ্গিক বিষয়াদি, ভিক্টিমের অবস্থা, অপরাধে ভূমিকা, অপরাধ সংঘটনে অভ্যস্থতা ইত্যাদি বিষয় বিবেচনা করে নির্ধারণ করে দিতে পারে যে ন্যূনতম কত বছর কোনো অপরাধীকে কারাবাস করতেই হবে।

ইংল্যান্ডে শাস্তি-কাউন্সিল ও শাস্তি-নীতিমালাঃ

ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের Sentencing Guidelines Council ও Sentencing Advisory Panel এর পরিবর্তে Coroners and Justice Act 2009 এর মাধ্যমে ২০১০ সালে Sentencing Council প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। শাস্তির  নীতিমালা প্রস্তুত, নীতিমালা উন্নয়ন, নীতিমালার ব্যবহার মনিটরিং, শাস্তি সংক্রান্ত বিভিন্ন সিদ্ধান্ত মূল্যায়ন ও পুনর্নিরীক্ষণ করা এই কাউন্সিলের দায়িত্ব। এই নীতিমালা সাধারণভাবে প্রযোজ্য হতে পারে, বা বিশেষ শ্রেণীর অপরাধ বা বিশেষ শ্রেণীর অপরাধীর জন্যে হতে পারে।[xxxix] উক্ত কাউন্সিল গঠিত হয় ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থায় বিশেষজ্ঞ ৮ জন বিচার বিভাগীয় সদস্য (Lord Chancellor এর সম্মতিতে Lord Chief Justice কর্তৃক নিয়োগকৃত) এবং ৬ জন বিচারবিভাগ বহির্ভূত সদস্য (Lord Chief Justice এর সম্মতিতে Lord Chancellor কর্তৃক নিয়োগকৃত)।[xl] কাউন্সিলের সভাপতি হন Lord Justice Treacy। অপরাধের প্রকৃতি, অপরাধ সংঘটনে অপরাধীর নিন্দনীয়তা, অপরাধের কারণে সংঘটিত ক্ষতি, অপরাধের তীব্রতা বিবেচনার জন্য অন্যান্য বিষয়াদি উল্লেখ করে অপরাধ সংঘটনে কী কী  ঘটতে পারে তার বর্ননা এবং অপরাধের তীব্রতা অনুসারে শাস্তির পরিসীমা শাস্তি-নীতিমালায় উল্লেখ থাকে।[xli] কাউন্সিলকে অবশ্যই Lord Chancellor, Lord Chancellor কর্তৃক নির্দেশিত ব্যক্তিবর্গ, House of Commons এর Justice Select Committee, এবং কাউন্সিল কর্তৃক বিবেচিত অন্যান্য ব্যক্তিদের সাথে খসড়া নীতিমালা বিষয়ে পরামর্শ করতে হয়।[xlii] ন্যায় বিচারের পরিপন্থী না হলে, আদালতকে অবশ্যই অপরাধীর ঘটনার সাথে প্রাসঙ্গিক শাস্তি-নীতিমালা অনুসরণ করতে হয়।[xliii]

উদাহরণস্বরূপঃ- ২১ বছর বা তার বেশী বয়সের অপরাধীকে বাধ্যতামূলক যাবজ্জীবন শাস্তির প্রদানের ক্ষেত্রে অপরাধের সাংঘাতিকতা বা উক্ত অপরাধের সাথে অন্যান্য অপরাধের সংশ্লিষ্টতা বিবেচনায় আদালতের কাছে যদি মনে হয় early release সংক্রান্ত বিধান প্রযোজ্য হওয়া উচিত নয়, তাহলে আদালতকে অবশ্যই সেটি আদেশে উল্লেখ করতে হয়। অর্থাৎ সেক্ষেত্রে বাদবাকি সারাজীবনের কারাভোগ করতে হয়। অন্যথায়, উল্লেখ করে দিতে হয় যে আদেশে উল্লেখিত মেয়াদ অতিবাহিত হওয়ার পরে অপরাধীর জন্য Crime (Sentences) Act 1997 এর early release সংক্রান্ত বিধান (ধারা ২৮) প্রযোজ্য হবে। অপরাধের সাংঘাতিকতা বা উক্ত অপরাধের সাথে অন্যান্য অপরাধের সংশ্লিষ্টতা বিবেচনা করতে গিয়ে আদালতকে অবশ্যই ২১ নং তফছিলে উল্লেখিত সাধারণ নীতিমালার প্রতি মনোযোগ দিতে হয়।[xliv]

Criminal Justice Act 2003 এর ২১ নং তফছিলে বাধ্যতামূলক যাবজ্জীবন শাস্তির ক্ষেত্রে বিভিন্ন starting point বা ন্যূনতম মেয়াদের বিবরণ দেয়া হয়েছে। Starting point হিসেবে whole life order যেসকল ঘটনার ক্ষেত্রে হতে পারেঃ- অপহরণ বা যৌন/ধর্ষকামী উদ্দেশ্যে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে একাধিক খুন, যৌন/ধর্ষকামী উদ্দেশ্যে শিশু (অনুর্ধ ১৮) খুন, রাজনৈতিক /ধর্মিয়/বর্ণগত/মতবাদ অগ্রসর করার উদ্দেশ্যে খুন, পূর্বে খুনর দায়ে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তি কর্তৃক খুনকাণ্ড।[xlv]  আদালতের কাছে যদি মনে হয় অপরাধের সাংঘাতিকতা (বা উক্ত অপরাধের সাথে অন্যান্য অপরাধের সংশ্লিষ্টতা বিবেচনায়) বেশী এবং অপরাধ সংঘটনের সময় অপরাধীর বয়স ১৮/বেশি, কিন্তু ৪ নং দফায় আওতাভূক্ত নয়, তাহলে উপযুক্ত starting point হবে ৩০ বছর। যে সকল ঘটনার ক্ষেত্রে ৩০ বছর starting point হতে পারেঃ- দায়িত্বপালনকারী পুলিশ অফিসার/প্রিজন অফিসারকে খুন, আগ্নেয়াস্ত্র/বিস্ফোরক পদার্থ দ্ধারা খুন, সম্পত্তি লাভের জন্য খুন, আদালতের বিচারকার্যে বাধার উদ্দেশ্যে খুন, যৌন/ধর্ষকামি উদ্দেশ্যে খুন, একাধিক ব্যক্তিকে খুন ইত্যাদি।[xlvi] এছাড়া অপরাধে ব্যবহৃত অস্ত্র, অপরাধীর বয়স ১৮ এর কম ইত্যাদি বিবেচনায় starting point ১২, ১৫, বা ২৫ বছর হতে পারে। ২১ নং তফছিল হতে কোনটিকে কেনো starting point হিসেবে বাছাই করা হয়েছে, এবং ঐ তফছিলে উল্লেখিত নির্দিষ্ট starting point হতে বিচ্যুতি হলে, তার কারণ আদালতকে অবশ্যই ব্যাখ্যা করতে হয়।[xlvii]

যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল শাস্তি-নীতিমালাঃ-

১৯৮৪ সালের Sentencing Reform Act দ্ধারা স্বাধীন সংস্থা United States Sentencing Commission (USSC) সৃষ্টি করা হয়েছে। সিনেটের পরামর্শ ও সম্মতি নিয়ে প্রেসিডেন্ট এই কমিশনে সর্বোচ্চ ৩ জন বিচারক  সহ মোট ৭ সদস্যকে নিয়োগ করে থাকেন। এই কমিশনের কাজ হলো ফেডারেল আদালত সমূহের জন্য জাতীয় শাস্তি নীতিমালা তৈরি করা। যুক্তরাষ্ট্রীয় শাস্তির প্রক্রিয়া পর্যালোচনা এবং  যুক্তিসম্মতভাবে ব্যাখ্যা করার জন্য এই আইন USSC কে বিশদ কর্তৃত্ব দিয়েছে।[xlviii] বর্তমান সময়ে জারিকৃত Guidelines Manual 2015 গাইডলাইনে বর্ণিত পরিসর হতে একটি শাস্তি নির্বাচন করতে রায় প্রদানকারী আদালত আইন অনুসারে বাধ্য। তবে কোনো নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে গাইডলাইন হতে ভিন্ন বৈশিষ্ট্যের ঘটনা পাওয়া গেলে আদালত ঐ গাইডলাইন নির্ধারিত সীমার বাইরের শাস্তি দিতে পারে। তবে ঐ ক্ষেত্রে অবশ্যই কারণ উল্লেখ করতে হয়। এই আইনের মাধ্যমে parole (শর্তাধীন মুক্তি) নিয়ম বিলোপ করা হয়েছে।

দণ্ডিত করার ছকঃ- কমিশন একটি শাস্তি টেবিল/ছক তৈরি করেছে যাতে কারিগরি ও ব্যবহারিক কারণে ৪৩ টি লেভেল রয়েছে। টেবিলের প্রতিটি স্তরের রেঞ্জ পূর্ববর্তী ও পরবর্তী লেভেলের রেঞ্জকে ওভারল্যাপ করেছে। ওভারল্যাপিং রেঞ্জের মাধ্যমে অপ্রয়োজনীয় মামলা নিরুত্সাহিত হয়েছে। অভিযোগকারীপক্ষ ও আসামিপক্ষ উভয়ই উপলব্ধি করতে পারে যে এক স্তর এবং অন্য স্তরের পার্থক্যের কারণে আদালত ঘোষিত শাস্তির পরিমাণের কোনো পার্থক্য হবে না। ফলে সামান্য উদ্দেশ্যে (উদাহরণস্বরূপ কোনো জালিয়াতির মাধ্যমে ১০,০০০ ডলার নাকি ১১,০০০ ডলার প্রাপ্ত হয়েছিল) মামলা দীর্ঘায়িত করার চেষ্টায় কোনো লাভ হবে না। প্রতিটি লেভেলে আনুপাতিক হারে শাস্তির পরিমাণ বৃদ্ধি হয়। টেবিলে বর্ণিত অপরাধ লেভেল অর্থপূর্ণভাবে আনুপাতিকভাবে ওভারল্যাপ করেছে এবং প্রতিটি লেভেলের সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদানের জন্য আদালতের সম্ভবপর বিচক্ষণতা প্রয়োগের সুযোগ রেখেছে।[xlix]

দন্ডিত করার টেবিলের খাড়া অক্ষে ১ হতে ৪৩ অপরাধ লেভেল রয়েছে এবং আনুভূমিক অক্ষে ক্রিমিনাল ইতিহাস শ্রেণী (১ হতে ৬) রয়েছে। অপরাধ লেভেল এবং ক্রিমিনাল ইতিহাস শ্রেণীর মধ্যচ্ছেদ স্থলে মাসের হিসেবে কারাদন্ডের গাইডলাইন রেঞ্জ উল্লেখ থাকে। টেবিলে উল্লেখিত “life” বলতে বোঝায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। যেমনঃ- অপরাধ লেভেল ১৫ এবং ক্রিমিনাল ইতিহাস শ্রেণী ৩ এর একজন আসামীর জন্য প্রযোজ্য গাইডলাইন রেঞ্জ হলো ২৪ – ৩০ মাসের কারাদণ্ড। গাইডলাইন প্রয়োগ করতে গিয়ে বিরল ক্ষেত্রে ১ এর কম বা ৪৩ এর বেশী অপরাধ লেভেল পাওয়া যেতে পারে। সেক্ষেত্রে ১ এর কম অপরাধ লেভেলকে ১ ধরতে হয় এবং ৪৩ এর বেশী অপরাধ লেভেলকে ৪৩ ধরতে হয়। পেশাদার ক্রিমিনাল এবং আর্মড পেশাদার ক্রিমিনাল ব্যতীত অন্যান্য ক্ষেত্রে ক্রিমিনাল ইতিহাস শ্রেণী নির্ধারণ করা হয় চতুর্থ অধ্যায়ের পার্ট-এ এর মাধ্যমে প্রাপ্ত ক্রিমিনাল ইতিহাসের মোট পয়েন্ট দ্বারা। দণ্ডিত করার টেবিলে ক্রিমিনাল ইতিহাসের মোট পয়েন্টের সাথে প্রত্যেক ক্রিমিনাল ইতিহাস শ্রেণী দেখানো হয়েছে।[l]

দুই নম্বর অধ্যায় অপরাধ আচরণ সংক্রান্ত। এই অধ্যায়টি অপরাধ অনুসারে গঠিত এবং আইনের ধারা উল্লেখ সহ  সংশ্লিষ্ট বিভাগে বিভক্ত। প্রতিটি অপরাধের  সংশ্লিষ্ট মূল  অপরাধ স্তর রয়েছে এবং এক বা একাধিক নির্দিষ্ট অপরাধ বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করা হয়েছে যা  অপরাধ স্তরের উর্ধ্বগামী বা নিম্নগামীর সাথে সমন্বয় হয়। অপরাধের সাথে প্রাসঙ্গিক কিছু বিষয় যা এই অপরাধ আচরণ অধ্যায় দ্ধারা অন্তর্ভূক্ত হয় নি, সেগুলো তৃতীয় অধ্যায় (ভিক্টিম সম্পর্কিত সমন্বয়, অপরাধে ভূমিকা, প্রতিরোধ ও সম্পর্কিত সমন্বয়); চতুর্থ অধ্যায় (পেশাদার অপরাধী এবং অপরাধ জীবিকা); এবং পঞ্চম অধ্যায় (বিচ্যুতি) তে বর্নিত রয়েছে।

বাংলাদেশে শাস্তি-নীতিমালা’র অনুপস্থিতিঃ

আমাদের দেশে সাধারণ অপরাধের শাস্তির পরিমাণ ও বিধান পেনাল কোডে বর্ণিত আছে, এবং বিশেষ বিশেষ কতক আইনে বিশেষ অপরাধের শাস্তির পরিমাণ ও বিধান বর্ণিত আছে। আলাদা আলাদা প্রত্যেকটি অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ কী পরিমাণ শাস্তি প্রদানযোগ্য তা উল্লেখ রয়েছে। কতক ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন শাস্তির বিধানও আছে, অর্থাৎ ঐ সকল ক্ষেত্রে ন্যূনতম ঐ শাস্তির কম কোনো শাস্তি দেয়া যায় না। অপরাধ সংঘটনের দায়ে কোনো অপরাধীকে আইনে বর্ণিত শাস্তির ন্যূনতম-সর্বোচ্চ স্কেলের মধ্যে ঠিক কী পরিমাণ শাস্তি দেয়া হবে, তা নির্ধারণ করতে গিয়ে আদালতকে অনেকগুলো বিষয় বিবেচনা করতে হয়।  নির্দিষ্ট কোনো অপরাধের জন্য আইনে বর্নিত শাস্তির বড় পরিসীমার মধ্যে শাস্তির পরিমাণ নির্ধারণের সুনির্দিষ্ট চালক-নীতি না থাকায় আদালত তার নিজস্ব অনুভুতি প্রয়োগ করে অপরাধের প্রকৃতি বিবেচনায় শাস্তির পরিমাণের স্বপক্ষে যুক্তি প্রতিষ্ঠা করেন। নিবারণকে শাস্তি প্রদানের লক্ষ্য হিসেবে বা কোনো আদালত পুনর্বাসনকে শাস্তি প্রদানের লক্ষ্য বিবেচনা করে থাকতে পারেন। কখনও কখনও ঐ উভয় বিষয় বিবেচনা করে আদালত শাস্তির পরিমাণ বা ধরণ নির্ধারণ করে থাকেন। ব্যাপক মাত্রায় বিচক্ষণতা প্রয়োগ করার সুযোগ আদালতের রয়েছে যেমন সত্য, তেমনি শাস্তির পরিমাণ নির্ধারণের সুনির্দিষ্ট চালক-নীতির অনুপস্থিতি আমাদের ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থার একটি দুর্বল দিক হিসেবেও দেখা হয়ে থাকে।

বাংলাদেশে শাস্তি-নীতিমালা জারি করার জন্য কোনো কর্তৃপক্ষ না থাকা, এবং যাবজ্জীবন শাস্তি প্রদানের সময়ে অপরাধের তীব্রতা ও অন্যান্য বিষয় বিবেচনায় বিভিন্ন ন্যূনতম মেয়াদ (ঐ মেয়াদের আগে সরকার মুক্তি দিতে পারবে না) এবং বিশেষ কতক ক্ষেত্রে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড সহ আমরণ কারাবাস (সরকার কখনই মুক্তি দিতে পারবে না) দেয়ার জন্য আইনি বিধান থাকার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে Rokia Begum alias Rokeya Begum vs. The State[li] মামলায় বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আপীল বিভাগের মাননীয় বিচারপতি Muhammad Imman Ali নিম্নোক্ত পর্যবেক্ষণ দিয়েছেনঃ-

“In Bangladesh there is no specific authority to issue any sentencing guideline and as a result Judges are guided only by the sentences provided in the Penal Code and other special laws, and life sentence, in some cases, turns out to be a relatively lenient sentence. It is in this backdrop that many Judges choose the sentence of death for crimes which they consider to be most heinous since that effectively is the harshest punishment. Had there been any provision in our law for gradation of the life sentence or for expressing the view that the convict shall not be released during his life time, or for a specified number of years, then perhaps the Judges would opt for the longer life imprisonment, which may be considered a more harsh punishment than death.”

আমাদের দেশের মতো প্রতিবেশি ভারতেও আইনে বর্নিত শাস্তির বড় পরিসীমার মধ্যে শাস্তির পরিমাণ নির্ধারণের সুনির্দিষ্ট চালক-নীতি নেই, যদিও উচ্চ আদালত অনেক ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ধরণের মামলায় শাস্তি প্রদানের ক্ষেত্রে কী কী বিষয় বিবেচনা করা দরকার, সে বিষয়ে নির্দেশনা দিয়ে থাকেন। বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আপীল বিভাগ কর্তৃক ঘোষিত আইন হাইকোর্ট বিভাগের জন্য এবং সুপ্রীম কোর্টের যে কোন বিভাগ কর্তৃক ঘোষিত আইন অধঃস্তন সকল আদালতের জন্য অবশ্যপালনীয়।[lii] যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা মৃত্যুদণ্ডের শাস্তিযোগ্য মামলার মতো বিভিন্ন বড় বড় মামলায় শাস্তির পরিমাণ (মৃত্যুদণ্ড নাকি যাবজ্জীবন) নির্ধারণ করার ব্যাপারে উচ্চ আদালতের বিভিন্ন নজির রয়েছে। তথাপি, ছোট ছোট বিভিন্ন প্রকারের মামলা সহ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা মৃত্যুদণ্ডের শাস্তিযোগ্য একই প্রকৃতির ও তীব্রতার অপরাধের জন্য আদালত ভেদে শাস্তির পরিমাণের পার্থক্য পরলক্ষিত হয়।

শাস্তির পরিমাণ নির্ধারণের লক্ষ্যে শাস্তি-নীতিমালার প্রয়োজনীয়তার কথা ভারতের উচ্চ আদালত বিভিন্ন সময়ে ব্যক্ত করেছেন। ২০০৮ সালে State of Punjab vs Prem Sagar & others[liii]  মামলায় ভারতের সুপ্রীম কোর্ট বলেন, ভারতের বিচার ব্যবস্থায় এখনো দণ্ড প্রদান বিষয়ে আইনি নীতিমালা করা হয় নি। আদালত আরও বলেন, কোন অপরাধীকে শাস্তি প্রদানের তাৎপর্য ও লক্ষ্য নিয়ে উচ্চ আদালত সমূহ পর্যবেক্ষণ প্রদান করা ছাড়া কোন মূলনীতি জারি করে নি। তবে এই বিষয়ে কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান/সংস্থা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং Madhava Menon Committee ও Malimath Committee এর মতো আরও কিছু কমিটি sentencing guidelines প্রবর্তনের দাবি করেছে মর্মে সুপীম কোর্ট ঐ রায়ে উল্লেখ করেন। দণ্ডিত করার কী ধরণের প্রভাব সমাজে পড়বে তা আইনপ্রনেতাদের কর্তৃক অনুরত্তিত রয়েছে এবং উচ্চ আদালত সমূহ অনেক ক্ষেত্রে শাস্তি প্রদানের নীতিতে অস্বাভাবিকতা পেয়েছেন মর্মে উল্লেখ করে ভারতের সুপ্রীম কোর্ট বলেন একই প্রকৃতির অপরাধ সংঘটনের দায়ে শাস্তির পরিমাণে ভিন্নতা দেখা যায় এবং একই পরিমাণ শাস্তি প্রদান করা হলেও যে নীতি প্রয়োগ করা হয়েছে তার ভিন্নতা লক্ষ্য করা যায়।

ভারতের সুপ্রীম কোর্ট অনেক আগে থেকেই sentencing guidelines এর প্রয়োজনীয়তার কথা বলে আসছেন। ভারতে ২০০৩ সালে Malimath কমিটি ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থা সংশোধনের প্রস্তাব দিয়েছে। শাস্তি-নীতিমালার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে Malimath কমিটির রিপোর্টে [liv] বলা হয়েছে, ভারতীয় পেনাল কোডে অনেক অপরাধের জন্য শুধুমাত্র সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান এবং কিছু অপরাধের জন্য সর্বনিম্ন শাস্তিও নির্ধারিত রয়েছে। বিধিবদ্ধ সীমার মধ্যে শাস্তি প্রদানে বিচারকের ব্যাপক বিচক্ষণতার সুযোগ থাকলেও মামলার পরিস্থিতি অনুসারে সবচেয়ে উপযুক্ত শাস্তি নির্বাচনের জন্য বিচারকের কাছে গাইডলাইন নেই মর্মে ঐ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রত্যেক বিচারক তাঁর নিজের বিচার অনুযায়ী বিচক্ষণতা প্রয়োগ করায় শাস্তি প্রদানে কোন অভিন্নতা নেই, কারণ কিছু বিচারক কোমল এবং কিছু বিচারক কঠোর হন।  কিছু দেশে শাস্তির নির্দেশিকায় এবং দণ্ডবিধিতে দন্ডিত করার গাইডলাইন দেওয়া রয়েছে উল্লেখ করে সাজা প্রদানের ব্যাপারে অনিশ্চয়তা কমাতে ভারতেও ঐ ধরনের আইন প্রণয়নের জন্য প্রতিবেদনে সুপারিশ করা হয়। যেহেতু মৃত্যুদন্ড শুধুমাত্র বিরল ক্ষেত্রে প্রদান করা উচিত, সেহেতু কমিটির বিবেচনায় যাবজ্জীবন কারাদন্ডের চেয়ে বেশী এবং মৃত্যুদন্ড চেয়ে কম একটি শাস্তি নির্ধারণ করা উচিত। দণ্ডবিধির ৫৩ ধারা সংশোধন করে “মওকুফ বা লঘুকরণ বিহীন যাবজ্জীবন কারাদণ্ড” নামক শাস্তি অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। উদ্দেশ্য হলো, যেক্ষেত্রে “লঘুকরণ এবং মওকুফ বিহীন যাবজ্জীবন কারাদণ্ড” প্রদান করা হবে, সরকার সেই শাস্তি লঘু বা মওকুফ করতে পারবে না।

উপসংহারঃ-

যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হলো অপরাধীর বাদবাদি পুরো জীবনের কারাবাসের শাস্তি। সরকার কর্তৃক শাস্তি মওকুফ/কমানোর আদেশ ব্যতীত আমাদের বিদ্যমান আইনে এমন কোনো বিধান নেই যাতে করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রাপ্ত কয়েদি ২০ বছর বা ৩০ বছর পরেই মুক্তি পেয়ে যাবে। আদালত যাবজ্জীবন শাস্তি ঘোষণার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেন, আর ঐ কারাদণ্ড প্রাপ্ত অপরাধীর মুক্তির দিনক্ষণ বা আদোও মুক্তি লাভ করবে কিনা তা নির্ভর করে সরকারের নির্বাহী আদেশের উপর। সরকারের নির্বাহী আদেশ ব্যতীত যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের অপরাধী মুক্তি লাভের কোনো অবিচ্ছেদ্য অধিকার নেই। সাধারণত যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত কয়েদিরা রেয়াত সহ ২০ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে মুক্তি লাভ করে থাকলেও সুনির্দিষ্ট কোন দিনে মুক্তি লাভের সম্ভাবনা রয়েছে, তা বলা যায় না। সরকারের নির্বাহী আদেশে ঢালাওভাবে সকল শ্রেণীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের অপরাধী মুক্তি লাভের ঘটনা নিয়ে যেমন সমালোচনা হয়, তেমনিভাবে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রাপ্ত একই ধরনের সকল অপরাধীদের ক্ষেত্রে একই নীতি অনুসরণ করা হয় কিনা তা নিয়েও সমালোচনা হয়। অনেক জঘন্য খুনের মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেয়া হলেও যখন ঐ দণ্ডিত অপরাধী জীবদ্দশায় মুক্তি পেয়ে যায়, তখন ঐ শাস্তি যথার্থ নয় মর্মে জনমনে বিবেচিত হয়ে থাকে।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বলতে যে সবসময়ই দণ্ডিত অপরাধীর সমগ্র স্বাভাবিক জীবনের কারাবাস (the entire natural life of the convict)-কেই বোঝায়, সে বিষয়ে লেজিসলেটিভ শুদ্ধকরণ প্রয়োজন। উদারহণসরূপ, ভারতে Criminal Law Amendment Act of 2013 এর মাধ্যমে ভারতের পেনাল কোডে সংশোধনী আনা হয়েছে যাতে বর্তমান ৩৭০(৬), ৩৭৬-এ, ৩৭৬-ডি এবং ৩৭৬-ই ধারায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের শাস্তিকে উল্লেখ করা হয়েছে “imprisonment for life, which shall mean imprisonment for the remainder of that person’s natural life” হিসেবে।

বিশ্বের অনেক দেশে আদালত যাবজ্জীবন শাস্তি প্রদানের সাথে ন্যূনতম মেয়াদ উল্লেখ করে দিতে পারেন এবং ঐ ন্যূনতম মেয়াদের কারাবাসের আগে সরকার ঐ কারাবন্দির মুক্তির বিষয় বিবেচনা করতে পারেন না। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো আমাদের ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থায় শাস্তি-নীতিমালা প্রবর্তন করা দরকার। যাবজ্জীবন শাস্তির ক্ষেত্রে অপরাধের তীব্রতা ও অন্যান্য বিষয় বিবেচনায় বিভিন্ন “ন্যূনতম মেয়াদ” (ঐ মেয়াদের আগে সরকার মুক্তি দিতে পারবে না) এবং বিশেষ কতক ক্ষেত্রে “যাবজ্জীবন কারাদণ্ড সহ whole life order” (সরকার কখনই মুক্তি দিতে পারবে না) দেয়ার জন্য দণ্ডবিধি সহ শাস্তি-নীতিমালায় বিধান রাখা দরকার। তাছাড়া, প্রতিটি অপরাধের কোন ধরণের ঘটনায় কী পরিমাণ শাস্তি দিতে হবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা থাকলে অপরাধের সাংঘাতিকতা বা উক্ত অপরাধের সাথে অন্যান্য অপরাধের সংশ্লিষ্টতা বিবেচনা করে আদালত উপযুক্ত একটি শাস্তির পরিমাণ নির্ধারণ করতে পারবেন।

অর্ধেক শাস্তি ভোগ করা সহ কতক শর্ত পূরণ হলে কারাবন্দিকে জেল কোডের ৭৮১ বিধি মোতাবেক প্যারোল বোর্ড কোনো কয়েদিকে মুক্তি দিতে পারে। তবে, মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, রাষ্ট্রদ্রোহ, অস্ত্র আইন, বিস্ফোরক আইন, ও মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনে দণ্ডিত অপরাধী প্যারোলে মুক্তির যোগ্য নয়। যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রাপ্ত কয়েদিদের মুক্তির বিষয়ে সরকার বরাবরে মতামত দেয়ার জন্য বিচার বিভাগীয় সদস্য সহ অন্যান্য বিভাগের সদস্য নিয়ে একটি আন্তর্বিভাগীয় বোর্ড গঠন করা যেতে পারে। প্রতি বছরে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের কতজন কয়েদিকে প্রকৃত কত বছরের কারাভোগের পরে মুক্তি দেয়া হলো সেই তথ্য-উপাত্ত কারাকর্তৃপক্ষের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা প্রয়োজন। সর্বোপরি, শাস্তি-নীতিমালা প্রবর্তন হলে একই প্রকৃতির অপরাধ সংঘটনের দায়ে শাস্তির পরিমাণ আদালতভেদে অভিন্ন হবে এবং শাস্তি প্রদানের নীতিও সকল আদালতে একই রকম হবে।

[i] Penal Code, 1860 (১৮৬০ সালের ৪৫ নং আইন)

[ii] Code of Criminal Procedure, 1898 (১৮৯৮ সালের ৫ নং আইন)

[iii] Gopal Vinayak Godse v. State of Maharashtra,  (AIR) 1961 SC 600; para-5

[iv] বিস্তারিত দেখুনঃ- Gopal Vinayak Godse vs. The State of Maharashtra &others, (1961) 3 SCR 440 (Constitution Bench); Dalbir Singh & others vs. State of Punjab, (1979) 3 SCC 745; Maru Ram vs. Union of India, (1981) 1 SCC 107 (Constitution Bench); Naib Singh vs. State of Punjab, (1983) 2 SCC 454; Ashok Kumar alias Golu vs. Union of India, (1991) 3 SCC 498; Laxman Naskar (Life Convict) vs. State of W.B.,, (2000) 7 SCC 626; Zahid Hussein vs. State of West Bengal, (2001) 3 SCC 750; Kamalanantha vs. State of Tamil Nadu, (2005) 5 SCC 194; Mohd.Munna vs. Union of India, (2005) 7 SCC 416 and C.A.Pious vs. State of Kerala, (2007) 8 SCC 312

[v] Rome Statute of the International Criminal Court, আর্টিকেল ১১০

[vi] ibid আর্টিকেল ৭৭

[vii] Criminal Justice Act 2003,  তফসিল ২১

[viii] যুগান্তর ডেস্ক, ‘হাজার বছরের জেল’ দৈনিক  যুগান্তর (ঢাকা, ২৮ জুলাই ২০১৩)

[ix] Sentencing Act 2002, ধারা ১০৩ (২এ)

[x] Ibid  ধারা ১০৩ (২বি)

[xi]Ivan Potas, “Life Imprisonment in Australia” (Australian Institute of Criminology, August 1989) p 5

[xii] Code of Criminal Procedure, 1973 (১৯৭৪ সালের ২ নং আইন)

[xiii] Prisons Act, l894 (১৮৯৪ সালের ৯ নং আইন), ধারা ৫৯, উপ-ধারা ৫

[xiv] Bangladesh Jail Code (Rules for the Superintendence and Management of Jails in Bangladesh)

[xv] Ibid  রুল ৭৫৬

[xvi] Ibid  রুল ৭৫৭

[xvii] Ibid রুল ৭৫৯

[xviii] Ibid রুল ৭৬৫

[xix] Ibid রুল ৭৬৮

[xx] Ibid  রুল ৭৫১ (এফ)

[xxi] Ibid রুল ৫৬৯

[xxii] Ibid রুল ৫৬৯, ২ নং নোট

[xxiii] Ibid রুল ৭৭০

[xxiv] Ibid রুল ৭৭১ এর নোট

[xxv] Arjun Jadav vs State of West Bengal & others, Writ  Petition (Crl) No.229/2004

[xxvi] Ibid

[xxvii] Gopal Vinayak Godse vs. State of Maharashtra, (1961) 3 SCR 440

[xxviii] Laxman Naskar (Life Convict) vs. State of W.B. & Anr., (2000) 7 SCC 626

[xxix] Code of Criminal Procedure, 1898 (১৮৯৮ সালের ৫ নং আইন), ধারা ৪০১(১)

[xxx] Ibid ধারা ৪০১, উপ-ধারা ২

[xxxi] Swamy Shraddananda @ Murali  vs State of Karnataka, (2008) 13  SCC 767

[xxxii] Shri Bhagwan vs. State of Rajasthan, (2001) 6 SCC 296

[xxxiii] Dalbir Singh V. The State of Punjab, (1979) 3 SCC 745

[xxxiv] 2014 (11) SCC 1

[xxxv] Union of India vs V. Sriharan @ Murugan & Ors, Writ Petition  (crl) No. 48/2014, 2014 (11) SCC 1

[xxxvi] Crimes (Amendment) Act 1986

[xxxvii] Ivan (n 11) page 5

[xxxviii] Rokia Begum alias Rokeya Begum vs. The State, 4 SCOB [2015] AD 20

[xxxix] Coroners and Justice Act 2009 এর ধারা ১২০

[xl] Ibid  ধারা ১১৮ ও ১৫ নং তফছিল

[xli] Ibid  ধারা ১২১

[xlii] Ibid  ধারা ১২০(৬)

[xliii] Ibid  ধারা ১২৫

[xliv] Criminal Justice Act 2003, ধারা ২৬৯

[xlv] Ibid  ২১ নং তফছিলের ৪ নং দফা

[xlvi] Ibid  ২১ নং তফছিলের ৫ নং দফা

[xlvii] Ibid ধারা ২৭০

[xlviii] United States Sentencing Commission, 2015 Guideline Manual, পৃষ্ঠা ১

   http://www.ussc.gov/sites/default/files/pdf/guidelines-manual/2015/GLMFull.pdf

[xlix] Ibid পৃষ্ঠা ১১

[l]Ibid  অধ্যায় ৫

[li] Rokia Begum alias Rokeya Begum vs. The State, 4 SCOB [2015] AD 20

[lii]  গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান, অনুচ্ছেদ ১১১

[liii] State of Punjab vs Prem Sagar & others, (2008) 7 S.C.C. 550

[liv] Ministry of Home Affairs of Government of India, Committee on Reforms of Criminal Justice System (Volume-I, March 2003), page 176. Committee was under the chairmanship of Dr. Justice V.S. Malimath, Formerly, Chief Justice of Karnataka and Kerala High Courts.       see more at

http://www.mha.nic.in/hindi/sites/upload_files/mhahindi/files/pdf/criminal_justice_system.pdf

About The Writer

Article Author Image

Mr. Jibrul Hasan.

LL.B. (Hon’s) (First Class), LL.M. (First Class) DU Judicial Magistrate, Manikganj.

E-mail: biplob.nst@gmail.com

Share:  



Welcome To "Law Journal BD"

Rafiqul Haque

“Law Journal BD” is a timely and innovative step towards the growth and development of law. The Journal is a combination of articles from experts which will broaden the scope of our legal instrument and jurisprudence. I sincerely hope the initiative will help the lawyers to be more informed & committed to struggle for justice. It would be more appropriate to consider it as a work of compilation of contributions from various jurists, practitioners and academicians. The “Law Journal BD” publishes articles on all aspects of law.

I deeply appreciate the efforts of the Editor and the whole team of “Law Journal BD”. It is a great contribution to Bangladesh judiciary. The journal publishes articles on all areas of law and I believe the articles will be very helpful to researchers, legal scholars, practitioners, law consultants and moreover to Law students. I am really thankful to both , who are contributing their valuable articles for publication and who are reading the articles for enhancing knowledge of law.


Thanks to all the readers of “Law Journal BD”.


Barrister Rafique - Ul Huq

Senior Advocate, Supreme Court of Bangladesh

Chief Advisor, “Law Journal BD”

Mahfuzur Rahman

The “Law Journal BD” is the first Online Law journal in Bangladesh which specifically publishes law articles only. You will find here different kind of research based articles on various Law topics. The primary function of the journal is to publish lengthy comprehensive treatments of articles generally written by law academicians, Judges, or legal practitioners. A significant feature is that the distinguished writers analyze judicial decisions, contemporary developments of law, legislation and current law reform.

The important features of the journal are the sections of Book Review and Biography of renowned person in legal field. The articles are published as a six months volume & then it will be found in the “Previous Publications” section. The “Law Journal BD” has the efficient team of learned advisors and experienced team of editors. All articles are subjected to a rigorous editorial process in order to strengthen substance, polish tone and ensure citation accuracy.



We thank you sincerely for reading “Law Journal BD”.


Barrister Md. Mahfuzur Rahman (Milon)

Advocate, Supreme Court of Bangladesh

Editor, “Law Journal BD”