জমি-জমার দখল সংক্রান্ত বিরোধঃ ১৪৫ ধারার প্রসেডিং এবং দেওয়ানি মোকদ্দমা প্রসঙ্গ

- Jibrul Hasan

IMG20170126192636

Published On - January 26, 2017 [Vol. 6, Jan - Jun, 2017]

ভূমিকাঃ   

সম্পত্তি বা অফিসের অধিকার  সংক্রান্ত বিষয়ে সিদ্ধান্ত প্রদানের জন্য দেওয়ানি আদালত সমূহ এখতিয়ার সম্পন্ন।  বিবাদমান বিষয়ে পক্ষদের অধিকার দেওয়ানি আদালত কর্তৃক চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ (ডিক্রী) হয় এবং প্রয়োজনে আদালত সেই ডিক্রী কার্যকরও করে দেন। জমি-জমার বিরোধ সংক্রান্তে স্বত্ব ঘোষণা, চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা, বাটোয়ারা, স্বত্ব ঘোষণা সহ দখল উদ্ধার ইত্যাদি মোকদ্দমা দেওয়ানি আদালত সমূহে দায়ের করা হয়ে থাকে। ঐ সকল মোকদ্দমায় জমি-জমার দখল সংক্রান্তে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা, স্থিতাবস্থা, রিসিভার নিয়োগ ইত্যাদি অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দিয়ে পক্ষদের স্বার্থ রক্ষার জন্য দেওয়ানি আদালত যথাযথ এখতিয়ার সম্পন্ন। এছাড়াও জমি-জমার দখল সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে যাতে শান্তি ভঙ্গ না হয় সেজন্য বিষয়বস্তুর দখলে থাকা বা অব্যবহিত ২ মাসের মধ্যে বেদখল হওয়া ব্যক্তিকে ঐ বিষয়বস্তুর দখলে থাকা উচিত এবং  আইনি প্রক্রিয়ায় উচ্ছেদ না হওয়া পর্যন্ত সম্পত্তিতে তিনি দখলে থাকার যোগ্য মর্মে ঘোষণা এবং দখলের বিষয়ে বিশৃঙ্খলা নিষিদ্ধ করে Code of Criminal Procedure, 1898 (CrPC) এর ১৪৫ ধারায় জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা বিশেষভাবে ক্ষমতা প্রাপ্ত এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আদেশ দিতে পারেন। তবে পক্ষদের মধ্যকার বিরোধীয় সম্পত্তির স্বত্ব ও দখলের অধিকার বিষয়ে সিদ্ধান্ত কেবল দেওয়ানি আদালতই দিতে পারেন; এবং ১৪৫ ধারার কার্যক্রম যেভাবেই শেষ হোক না কেন, ফৌজদারি আদালতের সিদ্ধান্ত সব সময়ই দেওয়ানি আদালতের সিদ্ধান্ত সাপেক্ষ। কোনো কোনো ক্ষেত্রে দেখা যায়, দেওয়ানি আদালতে বিচারাধীন বিষয় অর্থাৎ একই জমি-জমা নিয়ে সমান্তরাল্ভাবে CrPC এর ১৪৫ ধারার প্রসেডিং চালানো হয়। দেওয়ানি মোকদ্দমা বিচারাধীন থাকাবস্থায়, একই বিষয় নিয়ে CrPC এর ১৪৫ ধারার সমান্তরাল কার্যধারা কতটুকু গ্রহণযোগ্য, তাই এই আলোচনার মূল বিষয়।

১৪৫ ধারার প্রসেডিং

পুলিশ রিপোর্ট বা অন্য কোন তথ্যের মাধ্যমে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট যদি সন্তুষ্ট হন যে সীমানাভূক্ত কোন জমি বা পানি, বিল্ডিং, মার্কেট, মৎস্যচারণ, বা কোন জমির ফসল সংক্রান্ত  বিদ্যমান বিরোধ শান্তি নষ্ট করার উপক্রম হয়েছে, তাহলে CrPC এর ১৪৫ ধারা মোতাবেক ম্যাজিস্ট্রেট তার উক্ত সন্তুষ্টির কারণ উল্লেখ করবেন এবং বিরোধে জড়িত ব্যক্তিদেরকে নির্দিষ্ট তারিখে তার আদালতে স্বয়ং বা আইনজীবীর মাধ্যমে উপস্থিত হয়ে বিষয় বস্তুর প্রকৃত দখল বিষয়ে তাদের দাবি লিখিতভাবে প্রদানের নির্দেশ দিবেন। অপরপক্ষকে সমন-নোটিশ দেয়ার পরে বিবাদভূক্ত বিষয়বস্তুতে কোন পক্ষ দখলে থাকার অধিকারী তা মেরিটে বিবেচনা না করে পক্ষদের লিখিত বক্তব্য পর্যালোচনা করবেন, উভয়পক্ষকে শোনবেন, তাদের দেয়া সাক্ষ্য গ্রহণ করবেন, ঐ সাক্ষ্যের ফলাফল বিবেচনা করবেন, এবং প্রয়োজনে অতিরিক্ত সাক্ষ্য নিয়ে সিদ্ধান্ত নিবেন যে প্রসেডিং গ্রহনের আদেশ দেয়ার সময়ে কোন ব্যক্তি দখলে ছিলেন। প্রসেডিং গ্রহণের আদেশ দেয়ার অব্যবহিত দুই মাস আগে যাকে জবরদস্তি এবং অন্যায়ভাবে বেদখল করা হয়েছে, ঐ তারিখে তিনিই দখলে ছিলেন মর্মে ধরে নিতে পারেন। আশু ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার মনে করলে, দখলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার আগেই ঐ সম্পত্তি ক্রোক করতে পারেন। ম্যাজিস্ট্রেট যদি সিদ্ধান্ত নেন যে পক্ষদের কোন এক পক্ষ বিষয়বস্তুর দখলে ছিল বা উপধারা ৪ এর ১ম অনুশর্ত অনুযায়ী (অব্যবহিত ২ মাস আগে জবরদস্তি এবং অন্যায়ভাবে বেদখল) দখলে থাকা উচিত, তাহলে আইনি প্রক্রিয়ায় উচ্ছেদ না হওয়া পর্যন্ত সম্পত্তি ঐ ব্যক্তির দখলে থাকার যোগ্য মর্মে ঘোষণা দিবেন ও দখলের বিষয়ে বিশৃঙ্খলা  করা নিষিদ্ধ করে দিবেন। জবরদস্তি এবং অন্যায়ভাবে দখলচ্যুত ও দখলে থাকার যোগ্য সেই ব্যক্তি বরাবরে দখল উদ্ধার করে দিবেন।

দেওয়ানি আদালতে মোকদ্দমা বিচারাধীন থাকাঃ

কোন ব্যক্তি জমির দখলে থাকার অধিকারী তা CrPC এর ১৪৫ ধারার প্রসেডিং এ মেরিটে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। এ ধারার উদ্দেশ্য হলো কোন সম্পত্তির দখল সম্পর্কিত বিরোধের ক্ষেত্রে উপযুক্ত দেওয়ানি আদালত কর্তৃক কোন পক্ষের প্রকৃত অধিকারের সিদ্ধান্ত না দেয়া পর্যন্ত উক্ত বিষয়ে ম্যাজিস্ট্রেটকে অস্থায়ী আদেশ দানে বা হস্তক্ষেপে সক্ষম করা। ফলে স্বাভাবিকভাবেই নালিশি ভূমির মালিকানা কার বা কে দখলে থাকার অধিকারি, সেই সিদ্ধান্ত পাওয়ার জন্য দেওয়ানি আদালতে মোকদ্দমা দায়ের করতে হয়। আবার এমনও হতে পারে, দেওয়ানি মোকদ্দমা বিচারাধীন থাকাবস্থায় ঐ বিষয়বস্তু নিয়ে কোন এক পক্ষ ১৪৫ ধারার প্রসেডিং এর দরখাস্ত আনয়ন করেছেন। এ ক্ষেত্রে প্রশ্ন হলোঃ-

১) বিরোধীয় বিষয় নিয়ে দেওয়ানি মোকদ্দমা বিচারাধীন থাকাবস্থায় CrPC এর ১৪৫ ধারার অধিনে সমান্তরাল (parallel) ক্রিমিনাল প্রসেডিং চলতে পারে কিনা?

২) দেওয়ানি মোকদ্দমার অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা বা স্থিতাবস্থা’র আদেশ ভঙ্গের অভিযোগে CrPC এর ১৪৫ ধারার প্রসেডিং চলতে পারে কিনা?

৩) দেওয়ানি মোকদ্দমা বিচারাধীন থাকাবস্থায় CrPC এর ১৪৫ ধারার দরখাস্ত আনয়ন করলে ম্যাজিস্ট্রেট কী করবেন?

৪) CrPC এর ১৪৫ ধারায় ক্রোকি আদেশ হলে দেওয়ানি আদালত ভিন্ন আদেশ দিতে পারেন কিনা?

বিরোধীয় বিষয় নিয়ে দেওয়ানি মোকদ্দমা বিচারাধীন থাকাবস্থায় CrPC এর ১৪৫ ধারার অধিনে সমান্তরাল (parallel) ক্রিমিনাল প্রসেডিং চলতে পারে কিনাঃ

৪৫ ডিএলআর (এডি) ৩১, ৫১ ডিএলআর (এডি) ১৪, ৩৬ ডিএলআর (এডি) ৪৮, ১৯৯৭ বিএলডি ৩৬৪  = ৪৯ ডিএলআর ৪৮৫ এবং ৪ এমএলআর ১৯১ = ৫১ ডিএলআর ২৮৭ তে প্রকাশিত বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আপীল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের নজিরসমূহ পর্যালোচনা করে Abdur Rahman Sikder vs Nur Mohammad Khan, 57 DLR 239 মামলায় হাইকোর্ট বিভাগ বলেন, যেক্ষেত্রে বিবাদমান বিষয়টি ইতোমধ্যে দেওয়ানি আদালতের অধিকৃত হয়েছে এবং দখল সংক্রান্তে কোনো আদেশ বা ডিক্রী প্রদান করা হয়েছে, সেক্ষেত্রে CrPC এর ১৪৫ ধারায় ম্যাজিস্ট্রেটের কাজ করার এখতিয়ার থাকে না। যদি তর্কিত সেই জমি-জমা নিয়ে আইন-শৃংখলা অবনমন হয়, তাহলে আশঙ্কিত শান্তি-ভঙ্গ প্রতিরোধ করার জন্য ম্যাজিস্ট্রেট একমাত্র CrPC এর ১০৭/১১৭ ধারার পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারেন। এ প্রসঙ্গে Jobeda Khatun vs Momtaz Begum, 45 DLR(AD)31 মামলায় প্রদত্ত বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালতের সিদ্ধান্তটি নিম্নরুপঃ-

“The law as to whether a civil suit will prevail over a proceeding under section 145 CrPC is fairly well-settled when a civil suit is filed before a proceeding under section 145 CrPC is drawn up. If a civil Court is already seized with the subject matter of dispute and has also passed an order regulating possession thereof or in a case in which a decree for possession has been granted or a decree for permanent injunction has been granted, the jurisdiction of Magistrate under section 145 CrPC is ousted, the only saving being that action can be taken under sections 107 and 151 CrPC to prevent breach of peace, but no order by a Criminal Court for attachment of the property under section 145 CrPC can validly be made. This principle was laid down in the case of Shah Muhammad Vs. Huq Nawaz and the State, 23 DLR (SC) 14 and has since been followed by this Court in the case of Md. Shahabul Huda Vs. Md. Shafi, 36 DLR (AD) 44.”

Serajul Islam and others vs. Fazlul Hoque and others, 47 DLR 480 মামলায় বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ পর্যবেক্ষণে বলেন, দেওয়ানি মোকদ্দমা বিচারাধীন থাকাবস্থায় একই পক্ষদের নিয়ে CrPC এর ১৪৫ ধারার মামলা দায়ের করা সঠিক নয়। যদি দেওয়ানি মোকদ্দমার কোন পক্ষ তার অধিকৃত ভূমি হতে বেদখলের হুমকি প্রাপ্ত হন, তাহলে তিনি দেওয়ানি আদালতের প্রতিকার চাইতে পারেন এবং দেওয়ানি আদালত ভূমি সংক্রান্ত বিরোধের চূড়ান্ত নিষ্পত্তিকারক বিধায় সেই প্রতিকার ফৌজদারি আদালতে চাওয়া উচিত নয় মর্মে হাইকোর্ট বিভাগ অভিমত ব্যক্ত করেন।

Ram Sumer Puri Mahant vs State of U.P. and others, AIR 1985 SC 472 মামলার বিষয়বস্তু নিয়ে দেওয়ানি আদালতের স্বত্ব মোকদ্দমা  মেরিটে নিষ্পত্তি করে ২৮/২/১৯৮১ ইং তারিখের রায়ে ডিসমিস হয়। ঐ রায়ের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত আপীল বিচারাধীন থাকাবস্থায় CrPC এর ১৪৫ ধারার প্রসেডিং চালু করা হয়। CrPC এর ১৪৫ ধারার প্রসেডিংয়ে ম্যাজিস্ট্রেট সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ দেন। সংক্ষুব্ধ পক্ষ ঐ আদেশকে চ্যালেঞ্জ করে এলাহাবাদ হাইকোর্টে রিভিশন পিটিশন দায়ের করেন। ১৪৫ ধারার প্রসেডিং চালানো এবং সম্পত্তি ক্রোকের আদেশের বিষয়ে রিভিশনাল আদালত হিসেবে হস্তক্ষেপ করতে এলাহাবাদ হাইকোর্ট প্রত্যাখ্যান করেন। সেই আদেশের বিরুদ্ধে ভারতের সুপ্রীম কোর্টে স্পেশাল লিভ দায়ের করা হয়। মূল দেওয়ানি মামলার রায়ের বিরুদ্ধে আপীল চলাকালীন সময়ে CrPC এর ১৪৫ ধারার অধিনে সমান্তরাল (parallel) ক্রিমিনাল প্রসেডিং চলার কোন যৌক্তিকতা থাকে না মর্মে সর্বোচ্চ আদালত পর্যবেক্ষণ দিয়ে বলেন, দেওয়ানি আদালতের সিদ্ধান্ত ফৌজদারি আদালতের উপর বাধ্যকর- এই নিয়ে কোন সন্দেহ নেই। সমান্তরাল প্রসেডিং চলা উচিত নয় বিধায় সম্পত্তি সংক্রান্ত ম্যাজিস্ট্রেটের ১৪৫ ধারার ক্রোকি আদেশ বাতিল (quash) করে দিয়ে ভারতের সর্বোচ্চ আদালত মতামত দেন যে সম্পত্তির দখল বিষয়ে উপযুক্ত অন্তর্বর্তীকালীন আদেশের জন্য পক্ষদের যে কেউ মূল আপীল আদালতে যেতে পারেন।

Mahar Jahan and others v. State of Delhi and others, (2004) 13 SCC 421 মামলায় দেওয়ানি আদালতে বিচারাধীন বিষয় থেকে উদ্ভূত CrPC এর ১৪৫ ধারার প্রসেডিং ভারতের সর্বোচ্চ আদালত বাতিল করে দিয়েছিল। ভারতের সুপ্রীম কোর্ট লক্ষ্য করেন, দেওয়ানি বিরোধকে ফৌজদারি মামলার দিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। একই বিষয় নিয়ে দেওয়ানি মোকদ্দমা ও  CrPC এর ১৪৫ ধারার প্রসেডিং চলাকালীন বিষয়ে সর্বোচ্চ আদালত মত ব্যক্ত করেন যে, সম্পত্তির দখল বা দখলের অধিকার বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়ানি আদালত কর্তৃক নির্ধারিত হবে। পক্ষরা দেওয়ানি আদালতের দ্বারস্ত হয়েছে বিধায় এক যুগ ধরে চলতে থাকা ১৪৫ ধারার প্রসেডিং চলার কোন যুক্তিযুক্ততা নাই। CrPC এর ১৪৫ ধারার কার্যক্রম যেভাবেই শেষ হোক না কেন, ফৌজদারি আদালতের সিদ্ধান্ত সব সময়ই দেওয়ানি আদালতের সিদ্ধান্ত সাপেক্ষ। ভারতের সর্বোচ্চ আদালতের মতে, পক্ষদের সংক্ষুব্ধতার বিষয়গুলো দেখার এবং উপযুক্ত অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দিয়ে পক্ষদের স্বার্থ রক্ষার জন্য দেওয়ানি আদালতই সবচেয়ে উপযুক্ত ফোরাম। Code of Civil Procedure, 1908 (CPC) এর ৯৪ ও ১৫১ ধারা কর্তৃক অর্পিত ক্ষমতাবলে দেওয়ানি আদালত মামলাভূক্ত বিষয়-বস্তু নিয়ে অন্তর্বর্তিকালীন আদেশ প্রদান, কমিশনার বা রিসিভার নিয়োগ, বা সম্পত্তির দখল ও ব্যবহার বিষয়ে অন্য যে কোনো অন্তর্বর্র্তিকালীন আদেশ দিতে পারে। উক্ত মামলায় ভারতের সর্বোচ্চ আদালতের সিদ্ধান্তটি নিম্নরূপঃ-

“The question as to possession over the property or entitlement to possession would be determined by the civil court. The criminal proceedings have remained pending for about a decade. We do not find any propriety behind allowing these proceedings to continue in view of the parties having already approached the civil court. Whichever way proceedings under Section 145 CrPC may terminate, the order of the criminal court would always be subject to decision by the civil court. Inasmuch as the parties are already before the civil court, we deem it proper to let the civil suit be decided and therein appropriate interim order be passed taking care of the grievances of the parties by making such arrangement as may remain in operation during the hearing of the civil suit.”

দেওয়ানি মোকদ্দমার অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা বা স্থিতাবস্থা’র আদেশ ভঙ্গের অভিযোগে CrPC এর ১৪৫ ধারার প্রসেডিং চলতে পারে কিনাঃ

CrPC এর ১৪৫ ধারায় দরখাস্ত আনয়নের পূর্বেই একই সম্পত্তি নিয়ে একই ব্যক্তিদের মধ্যে দেওয়ানি মোকদ্দমা বিচারাধীন থাকলে এবং ঐ মোকদ্দমায় একপক্ষ অপরপক্ষের বিরুদ্ধে অন্তর্বর্তী নিষেধাজ্ঞা প্রাপ্ত হলে, পরবর্তিতে দায়েরকৃত ১৪৫ ধারার প্রসেডিং চালিয়ে যাওয়া এবং ফলশ্রুতিতে ১৪৬ ধারায় ক্রোক করা আদালতের কার্যক্রমের অপব্যবহার। দেওয়ানি মোকদ্দমায় প্রদত্ত অন্তর্বর্তী আদেশ ভঙ্গ (যা CPC এর  অর্ডার ৩৯ মোতাবেক শাস্তিযোগ্য) হলে, আদেশ ভঙ্গকারীর বিরুদ্ধে ঐ আদালতেই ভায়োলেইশন মামলা করার সুযোগ রয়েছে। অন্যদিকে, CrPC এর ১৪৫ ধারায় প্রদত্ত আদেশের লঙ্ঘন বা অমান্য (যা Penal Code এর ১৮৮ ধারায় শাস্তিযোগ্য) হলে পৃথক মামলা করতে হয় জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে। ফলে, দেওয়ানি মোকদ্দমার অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা বা স্থিতাবস্থা’র আদেশ ভঙ্গের অভিযোগে CrPC এর ১৪৫ ধারার প্রসেডিং না চালিয়ে আদেশ ভঙ্গকারীর বিরুদ্ধে ঐ দেওয়ানি আদালতেই ভায়োলেইশন মামলা করা উচিত।

  • যেক্ষেত্রে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার প্রতিকার চেয়ে তা প্রাপ্ত হয়েছে, এটা আইনত দাবি করা যায় না যে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশ সত্তেও এখনও শান্তি বিনষ্ট হওয়ার আশংকা রয়েছে। অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশ কোনভাবেই CrPC এর ১৪৬ (৬) (এ) ধারার আদেশের চেয়ে কম ফলোৎপাদক নয়। -Mangilal Vs. Bagmal, 1988 Cr.L.C. 1905 (MP)
  • কোন দেওয়ানি মোকদ্দমায় স্থিতাবস্থা’র আদেশ দেয়া হলে ঐ মোকদ্দমাটি বিচারাধীন থাকাবস্থায় সেই ভূমি সংক্রান্তে CrPC এর ১৪৫ ধারার প্রসেডিং গ্রহণ যৌক্তিক হবে না এবং সেই প্রসেডিং বাতিল হবে। -Sukhbir Singh Vs. State of Punjab, 2008 Cr.L.J. (NOC) 714 (P&H)
  • দিল্লী হাইকোর্টের মতে, পক্ষরা তাদের দাবিসমূহ নিষ্পত্তির জন্য যেই মাত্র দেওয়ানি আদালতের আশ্রয় গ্রহণ করেন, ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্ব পালনের আর কিছু থাকে না। ঐ সকল ক্ষেত্রে একই বিষয়-বস্তু নিয়ে যদি ফৌজদারি আদালতকে সমান্তরাল (parallel) প্রসেডিং শুরু করার সুযোগ দেয়া হয়, এতে শুধু জটিলতাই সৃষ্টি হয় না বরং দেওয়ানি আদালতের কর্তৃত্বের সম্মানকে undermine করা হয়। -Suresh Kumar Vs. Vijay Kumar, 1988 CrLJ 977 (Del)

দেওয়ানি মোকদ্দমা বিচারাধীন থাকাবস্থায় CrPC এর ১৪৫ ধারার দরখাস্ত আনয়ন করলে ম্যাজিস্ট্রেট কী করবেনঃ

সম্পত্তির স্বত্ব ঘোষণা বা দখল বিষয়ে দেওয়ানি মোকদ্দমা দায়ের হলে এবং সম্পত্তির নিরাপত্তার বিষয়ে ঐ আদালতে আবেদন করার ও প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ থাকাবস্থায়, CrPC এর ১৪৫ ধারার প্রসেডিং চলতে দেয়া উচিত নয়। দেওয়ানি আদালতে মোকদ্দমা বিচারাধীন থাকাবস্থায় একই জমি নিয়ে ১৪৫ ধারার দরখাস্ত আনয়ন করলে ম্যাজিস্ট্রেটের উচিত প্রসেডিং গ্রহণ না করা। দেওয়ানি আদালতে মোকদ্দমা বিচারাধীন থাকাবস্থায় প্রসেডিং গ্রহণ করা হয়ে থাকলে, দেওয়ানি মোকদ্দমা বিচারাধীন থাকার বিষয়ে অবগত হওয়ার সাথে সাথে ম্যাজিস্ট্রেট প্রসেডিং ড্রপ করে দিতে পারেন। যদি বিবাদমান সেই জমি নিয়ে আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি অবনমনের উদ্ভব হয়, আশংকিত শান্তি-ভঙ্গ প্রতিরোধ করার জন্য ম্যাজিস্ট্রেট একমাত্র CrPC এর ১০৭/১১৭ ধারার পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারেন।

Amresh Tiwari vs Lalta Prasad Dubey & another (Special Leave Petition (crl.) 3858  of  1999) মামলার ঘটনা নিয়ে প্রথমে দেওয়ানি মামলা দায়ের করা হয় এবং সেখানে স্থিতাবস্থার (status quo) আদেশ দেয়া হয়। পরবর্তীতে CrPC এর ১৪৫ ধারার প্রসেডিং শুরু হয়। ১৪৫ ধারার প্রসেডিংয়ে কোন চূড়ান্ত আদেশ হয় নি। দেওয়ানি আদালত কর্তৃক স্থিতাবস্থার আদেশ হয়েছে উল্লেখ করে ১৪৫ ধারার প্রসেডিং ড্রপ করার জন্য একপক্ষ আবেদন করলে এসডিএম (সাব-ডিভিশনাল ম্যাজিস্ট্রেট) ৯/৬/১৯৯৯ তারিখের আদেশে ১৪৫ ধারার প্রসেডিং ড্রপ করেন। ঐ আদেশের বিরুদ্ধে অপরপক্ষ এলাহাবাদ হাইকোর্টে ১২৩০/১৯৯৯ নং ক্রিমিনাল রিভিশন দায়ের করলে হাইকোর্ট এসডিএম এর আদেশকে বাতিল করে দেন। হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে সুপ্রীম কোর্টে স্পেশাল আপীল করা হয়। ভারতের সুপ্রিম কোর্ট Ram Sumer (AIR 1985 SC 472) মামলার নজির উল্লেখ করে বলেন, দেওয়ানি আদালত কর্তৃক সম্পত্তির দখল বিষয়ে অনুসন্ধান হয়ে থাকলে এবং মোকদ্দমার পক্ষদের ঐ আদালতেই সম্পত্তির বিষয়ে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার জন্য যাওয়ার সুযোগ থাকলে, CrPC এর ১৪৫ ধারার সমান্তরাল (parallel) প্রসেডিং চালানো উচিত নয়। বর্তমান মামলার ঘটনায় Ram Sumer মামলার সিদ্ধান্ত পুরোপুরি প্রযোজ্য মর্মে ব্যক্ত করে ভারতের সর্বোচ্চ আদালত বলেন, দেওয়ানি মামলা হয়েছে এমন প্রত্যেক ক্ষেত্রেই ১৪৫ ধারার প্রসেডিং চলতে পারে না, এমন নয়। সম্পত্তির স্বত্ব ঘোষণা বা দখল বিষয়ে দেওয়ানি মোকদ্দমা দায়ের হলে এবং সম্পত্তির নিরাপত্তার বিষয়ে ঐ আদালতে আবেদন করার ও প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ  থাকাবস্থায়, ১৪৫ ধারার প্রসেডিং চলতে দেয়া উচিত নয়। এর কারণ হলো, পক্ষদের মধ্যকার বিরোধীয় সম্পত্তির স্বত্ব ও দখল বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য দেওয়ানি আদালত সক্ষম এবং দেওয়ানি আদালতের আদেশ ম্যাজিস্ট্রেটের উপর বাধ্যকর। এমতাবস্থায়, হাইকোর্টের আদেশ বাতিল করে দিয়ে সর্বোচ্চ আদালতে বলেন, এসডিএম কর্তৃক ১৪৫ ধারার প্রসেডিং পরিত্যাগ (discontinue) করার সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল।

CrPC এর ১৪৫ ধারায় ক্রোকি আদেশ হলে দেওয়ানি আদালত ভিন্ন আদেশ দিতে পারেন কিনাঃ

দুই পক্ষের মধ্যে চলমান CrPC এর ১৪৫/১৪৬ ধারার প্রসেডিং এ ম্যাজিস্ট্রেট যদি দখল নির্ধারণ করতে অক্ষম হন এবং সম্পত্তি ক্রোকাবদ্ধ থাকার নির্দেশ দেন বা ১৪৫ ধারার প্রসেডিং চলমান থাকাবস্থায় জরুরি বিবেচনায় সম্পত্তি ক্রোকের আদেশ দেন, স্বত্ব ঘোষনার দাবিতে যে কোনো পক্ষ দেওয়ানি মোকদ্দমা দায়ের করতে পারেন। অর্থাৎ, ১৪৫ ধারার প্রসেডিং যে ভাবেই শেষ হোক না কেন, তার প্রেক্ষিতে দেওয়ানি মোকদ্দমার উৎপত্তি হওয়া খুবই স্বাভাবিক। দেওয়ানি মোকদ্দমায় অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞার দাবিতে CPC এর অর্ডার ৩৯ রুল ১/২ এর অধিনে আনিত দরখাস্তের প্রেক্ষিতে আদেশ প্রদানের ক্ষেত্রে আদালত আপাতদৃষ্ট কেস, সুবিধার ভারসাম্য এবং অপূরণীয় ক্ষতি- এই বিষয় গুলো বিবেচনা করে থাকেন। এক্ষেত্রে দখল সংক্রান্তে সংক্ষিপ্ত পর্যবেক্ষণ সম্বলিত এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশও কোনো পক্ষ দাখিল করতে  পারেন। যদি দেওয়ানি আদালত দখল বিষয়ে ভিন্নতর কিছু পেয়ে থাকেন তাহলে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের উক্ত আদেশ হতে ভিন্ন আদেশ প্রদান করতে পারেন।

এ প্রসঙ্গে Shanti Kumar Panda vs Shakutala Devi; [Appeal (civil)  10906 of 1996, date of judgment: 03/11/2003] মামলায় ভারতের সুপ্রীম কোর্ট বলেন, দেওয়ানি আদালত ম্যাজিস্ট্রেটের ঐ আদেশ (CrPC এর ১৪৫ ধারার আদেশ) কে  সম্মান প্রদর্শন করবেন এবং এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট হতে ভিন্নতর/পরস্পর বিরোধী আদেশ দানে অনিচ্ছুক হবেন। তবে এটা কখনই বলা যাবে না যে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট এর আদেশের পরস্পর বিরোধী কোন আদেশ প্রদান করতে দেওয়ানি আদালতের এখতিয়ার নেই। ভিন্ন আদেশ দেয়ার এখতিয়ার দেওয়ানি আদালতের রয়েছে, তবে তা নিয়ম হিসেবে নয় বরং ব্যতিক্রম হিসেবে ব্যবহার করতে হবে। অনেকক্ষেত্রে, এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশটি এখতিয়ার বহির্ভূত, স্পষ্টত ভুল বা স্ব-বিরোধী পর্যবেক্ষণ সম্বলিত মর্মে দেখানো যেতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, দুই মাসের বেশি সময়ের আগে দখলচ্যুত হওয়া ব্যক্তিকে দখলদার মর্মে দেখিয়ে ম্যাজিস্ট্রেট কোন আদেশ দিয়েছেন। ব্যতিক্রমি ঐ ধরনের ঘটনায়, ১৪৫ ধারায় প্রদত্ত ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশ ও পর্যবেক্ষণ থেকে বিসৃতি হয়ে দেওয়ানি আদালত নিষেধাজ্ঞার আদেশ দিতে পারেন।

উপসংহারঃ

সুনির্দিষ্ট দিনে বিরোধীয় সম্পত্তিতে কোন পক্ষ দখলে ছিলেন, সেই বিষয়ে CrPC এর ১৪৫ ধারার আদেশ দেয়া হয়। এর দ্ধারা ঐ সম্পত্তিতে দখলে থাকার কোন স্বত্ব তৈরি হয় না। ১৪৫ ধারার প্রসেডিং পরাজিত পক্ষ দেওয়ানি আদালতে তার প্রতিকার চেয়ে ঘোষণামূলক মোকদ্দমা আনয়ন করতে পারেন এবং দখলে থাকার জন্য তার অধিক অধিকার রয়েছে মর্মে প্রমাণ করতে পারেন। ফলে CrPC এর ১৪৫ ধারার প্রসেডিং যে ভাবেই শেষ হোক না কেন, তার প্রেক্ষিতে দেওয়ানি মোকদ্দমার উৎপত্তি হওয়া স্বাভাবিক এবং ১৪৫ ধারার দখল সংক্রান্ত আদেশের কার্যকারিতা অবশেষে দেওয়ানি আদালতের সিদ্ধান্তের উপরই  নির্ভরশীল। বাংলাদেশ ও ভারতের সর্বোচ্চ আদালতের উপর্যুক্ত মামলা সমূহে যে নজির উল্লেখ করা হয়েছে, তা হলো- দেওয়ানি মোকদ্দমা বিচারাধীন থাকাবস্থায় ঐ বিষয়-বস্তু নিয়ে ফৌজদারি আদালতে মামলা চালাতে কোন পক্ষকে সুযোগ দেয়া উচিত নয়; মূল দেওয়ানি মোকদ্দমার রায়ের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত আপীল বিচারাধীন থাকাবস্থাতেও ১৪৫ ধারার প্রসেডিং গ্রহণ করা উচিত নয়; দেওয়ানি আদালতে মোকদ্দমা বিচারাধীন থাকাবস্থায় ১৪৫ ধারার দরখাস্ত আনয়ন করলে ম্যাজিস্ট্রেটের উচিত প্রসেডিং গ্রহণ না করা ও প্রসেডিং গ্রহণ করার পরে উক্ত বিষয়ে অবগত করানোর সাথে সাথে প্রসেডিং ড্রপ করে দেয়া; দেওয়ানি আদালত কর্তৃক সম্পত্তির দখল বিষয়ে অনুসন্ধান হয়ে থাকলে দখল সংক্রান্ত বিভিন্ন অন্তর্বর্তীকালীন বা অস্থায়ী প্রতিকার ঐ আদালতেই চাওয়া উচিত; এবং দেওয়ানি মোকদ্দমার অন্তর্বর্তী আদেশ ভঙ্গের অভিযোগে CrPC এর ১৪৫ ধারার প্রসেডিং না চালিয়ে আদেশ ভঙ্গকারীর বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট দেওয়ানি আদালতেই ভায়োলেইশন মামলা দায়ের করা উচিত।

About The Writer

Article Author Image

Jibrul Hasan

LL.B. (Hon’s) (First Class), LL.M. (First Class) DU,

Judicial Magistrate, Manikganj.
E-mail: biplob.nst@gmail.com

Share:  



Welcome To "Law Journal BD"

Rafiqul Haque

“Law Journal BD” is a timely and innovative step towards the growth and development of law. The Journal is a combination of articles from experts which will broaden the scope of our legal instrument and jurisprudence. I sincerely hope the initiative will help the lawyers to be more informed & committed to struggle for justice. It would be more appropriate to consider it as a work of compilation of contributions from various jurists, practitioners and academicians. The “Law Journal BD” publishes articles on all aspects of law.

I deeply appreciate the efforts of the Editor and the whole team of “Law Journal BD”. It is a great contribution to Bangladesh judiciary. The journal publishes articles on all areas of law and I believe the articles will be very helpful to researchers, legal scholars, practitioners, law consultants and moreover to Law students. I am really thankful to both , who are contributing their valuable articles for publication and who are reading the articles for enhancing knowledge of law.


Thanks to all the readers of “Law Journal BD”.


Barrister Rafique - Ul Huq

Senior Advocate, Supreme Court of Bangladesh

Chief Advisor, “Law Journal BD”

Mahfuzur Rahman

The “Law Journal BD” is the first Online Law journal in Bangladesh which specifically publishes law articles only. You will find here different kind of research based articles on various Law topics. The primary function of the journal is to publish lengthy comprehensive treatments of articles generally written by law academicians, Judges, or legal practitioners. A significant feature is that the distinguished writers analyze judicial decisions, contemporary developments of law, legislation and current law reform.

The important features of the journal are the sections of Book Review and Biography of renowned person in legal field. The articles are published as a six months volume & then it will be found in the “Previous Publications” section. The “Law Journal BD” has the efficient team of learned advisors and experienced team of editors. All articles are subjected to a rigorous editorial process in order to strengthen substance, polish tone and ensure citation accuracy.



We thank you sincerely for reading “Law Journal BD”.


Barrister Md. Mahfuzur Rahman (Milon)

Advocate, Supreme Court of Bangladesh

Editor, “Law Journal BD”